সংবাদ শিরোনাম
গাজীপুরে দীর্ঘ সময় মর্গে লাশ ফেলে রাখার অভিযোগে হামলা এবং ভাংচুর, আটক-৩ | দুর্দান্ত খেলেও ভারতকে হারাতে পারলো না বাংলাদেশ | বুয়েটে বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত ব্যানার থেকে মুছে ফেলা হলো ছাত্রলীগের নাম | ভারতের বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ | ‘বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত’- কাদের | বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সাবেক ৭ এমডিসহ ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা | সাভার থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের এক সদস্য আটক | পাবনায় ছেলের পাথরের আঘাতে বাবার মৃত্যু | বশেমুরবিপ্রবি’র প্রভোষ্ট ও বিভিন্ন অনুষদের চেয়ারম্যানসহ ৭ জনের পদত্যাগ | অবৈধ স্থাপনা সরাতে সাবেক সাংসদ উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ৪ জনকে নোটিশ |
  • আজ ১লা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শুরু হয়েছে ভাঙ্গন: হুমকিতে শহর রক্ষা বেড়ি বাধ, আতঙ্কে রাজবাড়ীবাসী

১০:৫৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৯ ঢাকা
RAJBARI NODI VAGON PIC (9)

খন্দকার রবিউল ইসলাম, রাজবাড়ী প্রতিনিধি: পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি হওয়ায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের ধুঞ্চি গোদার বাজার ও মহাদেব পুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় শুরু হয়েছে নদী ভাঙ্গন। ভাঙ্গছে বসতি বাড়ী,আবাদী জমি। নিঃশ্ব হচ্ছে নদী তীরবর্তী মানুষ।

গত বছরের বর্ষা মৌসুমে ধুঞ্চি গোদার বাজার এলাকা থেকে সোনকান্দর পর্যন্ত আড়াই কিলমিটার সিসি ব্লক দিয়ে বাধা ৩শত মিটার অংশ নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। আবারও নতুন করে গত ২২ সেপ্টেম্বর রোববার সকাল থেকে একই স্থানের ৭০ থেকে ৮০ মিটার ও মহাদেব পুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে ৩০ মিটার অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

নতুন করে নদী ভাঙ্গন শুরু হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছে রাজবাড়ীবাসী। হুমকিতে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ,বসতবাড়ি, শহর রক্ষা বাধসহ নানা স্থাপনা।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আরিফুর রহমান অঙ্কুর জানান, গত ২৪ ঘন্টায় রাজবাড়ীর বেলগাছি মহেন্দ্রপুর পয়েন্টে পানি ৯.৪০ সেন্টি মিটার বেড়ে তা ২৪ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকাল পর্যন্ত বিপদ সীমার নিচে ৯.৬৫ সেন্টি মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন যে খানেই নদী ভাঙ্গন দেখা দিচ্ছে আমরা সে খানইে ভাঙ্গন রোধে কাজ করছি।

জানাযায়, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। স্রোতের তীব্রতায় শহর রক্ষা বেড়ীবাধেঁর গোদারবাজার থেকে সোনকান্দর সাধুর বটতলা পর্যন্ত প্রায় এক হাজার মিটার এলাকা চরম ঝুঁকির মধ্যে আছে। যেকোনো সময় পদ্মার হিংস্র থাবায় এই গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে এ এলাকায় বসবাস করা ৩শ পরিবার এখন ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

এ গ্রামে বসবাসকারী বেশীর ভাগ মানুষ জানান, গত কয়েক বছরে মিজানপুর ইউনিয়নের ৪টি ওয়ার্ড নদী গর্ভে বিলিন হয়েগেছে। ঐ সকল অঞ্চল থেকে নদীভাঙনের শিকার হয়ে তাঁরা ৩/৪ বছর আগে এ গ্রামে বাড়ী করেছিলেন আজ সেটিও নদীর গর্ভে বিলিন হওয়ার আশংকা রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, গেল ৪বছরে ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে এখন বাম্পিং এলাকায় ভাঙ্গতে শুরু করেছে। নদী ভাঙ্গনের শিকার হওয়া মোঃ মোজাহার বলেন, ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে বাপদার বসতি ভিটা ও ফলি জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়েগেছে। এ নিয়ে ৫বার ভাঙ্গনের শিকার হলাম এখন আর কিছু নেই যা ছিলো সব নদীর পেটে। এখন রাস্তার কোলে ছাড়া ্আর কোথাও যাওয়ার যায়গা নেই। খেয়ে না খেয়ে কাটছে জীবন। রেববার সকাল থেকে হঠাৎই রাজবাড়ী শহরের গোদার বাজার এলাকায় শুরু হয় তীব্র ভাঙ্গন।

সরেজমিনে গোদার বাজার এলাকায় গিয়ে দেখাযায়, এনজিএল ইট ভাটা এলাকায় নদীর কোল ঘেষে রাখা ইটের খামাল নিয়ে একের পর এক বড় বড় মাটির চাপ ভেঙ্গে পরছে নদী গর্ভে। ভাটার মালিক, শ্রমিক চেষ্টা করেছ ইট গুলো রক্ষা করার। তবুও লক্ষ টাকার ইট চলে গেছে নদী গর্ভে দাড়িয়ে দেখা আর চোখের জল ফেলা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না তাদের। এসময় স্থানীয় জনতা ভীর করেছে নদী ভাঙ্গন দেখতে। এ সময় দেখাযায়, গোদার এলাকার ব্যবসায়ী গোলাম মস্তফার ইট ভাটার অন্তত তিন শত মিটার এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে।

অন্যদিকে মহাদেবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও রয়েছে হুমরি মুখে। এছাড়া ভাঙ্গন স্থানের আশপাশে বড় বড় ফাটল রয়েছে এবং নদীতে রয়েছে তীব্র স্রোত ও ঘূর্নন। যে কারনে ভাঙ্গন আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসি ও ভাটা। মালিক।

ভাটার একাধীক শ্রমিকরা জানান, সকালে হঠাৎ করেই ভাটার পাশে ফাটল দেখা দেয়। নদীর পাড়ে স্তব করে রাখা ইট গুলো সরানোর চেষ্টা কওে ছিলাম কিন্তু নদ্রীর স্রোতের কাছে হারমানতে হয় আমাদের। অল্প কিছু ইট সরাতে পেরেছি। এ সময় নদীতে প্রায় ২০ হাজার ইট নদীতে চলে গেছে। ভাটা না থাকলে তারা বেকার হয়ে পড়বে। তাই দ্রুত ভাঙ্গন রোধে কাজ শুরু করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনুরোধ করেন।

ভাটার মালিকের ছেলে আলিফ মোস্তফা বলেন, হঠাৎ করে নদী ভাঙ্গন শুরু হওয়ায় আমরা দিশে হারা হয়ে পরেছি। এরই মধ্যে আমাদের অন্ত ২০ হাজার তৈরি করা ইট নদীতে চলে গেছে। যেস্থানে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে আর মাত্র ৫০ থেকে ৬০ গজ এলাকা ভাঙ্গলেই শহর রক্ষা বাধ ভেঙ্গে যাবে। পানি প্রবেশ করবে রাজবাড়ী শহরে। এখনই ব্যবস্থা গ্রহন না করলে ভয়ঙ্কর অবস্থার রুপ নিবে।

গোদার বাজার এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ৭০ উর্ধ বৃদ্ধা হামিদা বেগম বেগম বলেন, নদী ভাঙ্গন দেখতে দেখতে জীবন এখন শেষের দিকে। এমন ভাঙ্গনের শিকার হতে হতে আজ সহায় সম্বল হীন নিঃস্ব হয়ে বাধের কোলে বাসা বেধেছি। কোন রকমে বেচে আছি। নদীর শো শো শব্দে দুই ঘুম ভেঙ্গে যায়। সারা রাত যেগে থাকতে হয় কখন যেন আবার ঘরসরাতে হবে সেই চিন্তায়। কিছু দিন যাবৎ আমরা ঘুমাতে পারি না। কখন যেন বসত ভিটা নদী গর্ভে চলে যায়।

এ সময় একই এলাকার বাসিন্দা মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, গোদার বাজার ঘেষেই রয়েছে পাচটি বিদ্যালয়, রয়েছে দুটি মসজিদ ও শত শত বসত বাড়ি। আমরা এখন কোথায় যাবো তারও কোন ঠিক ঠিকানা নেই। তিনি অভিযোগ করে বলেন এই এলাকায় ভাঙ্গনরোধে কাজ হয়েছিলো কিন্তুু সঠিক নিয়মে বালুর বস্তা না ফেলায় আবারও ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

চর ধুঞ্চি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দোলেনা শুলতানা জানান, আমার এই স্কুলটি নদীর অতি নিকটে তাই এই স্কুলটি মারাত্বক ঝুকির মধ্যে রয়েছে। ভাঙ্গন শুরুর হয়েছে এমন খবর পেয়ে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে আসছে না। অভিভাবক রাও বাচাদের স্কুলে আসতে দিচ্ছে না। তাই যত দূরত সম্ভব এই ভাঙ্গন রোধ করা জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

মিজানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আতিয়ার রহমান জানান, রাজবাড়ীর জেলার সবচে বড় ইউনিয়ন মিজানপুর ই-আর এই নদী ভাঙ্গনের কারনে ছোট হয়ে যাচ্ছে প্রতিবছর বর্ষামৌসুমেই নদী গর্ভে বিলিন হচ্ছে দু একটি করে গ্রাম। এভাবে যদি ভাঙ্গতে থাকে তাহলে এক সময় দেখা যাবে মিজানপুর ইউনিয়ন নামে আর কোন ইউনিয়ন থাকবে রাজবাড়ীর মান চিত্রে। তাই আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারন মানুষের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই যাতে এই নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে এই মিজানপুর ইউনিয়নকে বাচাতে যথাযত ব্যবস্থাগ্রহণ করার জন্য।

পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবো’ রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সফিকুল ইসলাম জানান, কয়েকদিন যাবত পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে দেখা দিয়েছে তীব্র ¯্রােত। যে কারনে শহরক্ষাকারী বাঁধের গোদার বাজার এলাকার সংস্কার কাজের প্রায় ৩০ মিটার অংশ নদীতে বিলিন হয়েছে। রবিবার দুপুরে ভাঙ্গনের খবর পেয়ে ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছি। রাজবাড়ী শহরের গোদার বাজার এলাকায় নদী ভাঙ্গন এলাকার স্থায়ীবাধের মেরামত করার জন্য ৮০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাশ হয়েছে। যা শুকনো মৌসুমে শুরু হবে। এছারাও হঠাৎ করে যেহেতু ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে আমরা জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। সোমবার থেকে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে।

রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী বলেন, প্রতি বছর বষা মৌসুমে রাজবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙ্গন দেখা দেয়। প্রতি বছরই শত শত বিঘা ফসলী জমি ও হাজার হাজার বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়। এই ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পেতে রাজবাড়ীর গোদার বাজার থেকে দৌলতদিয়া ঘাট পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার এলাকার জন্য স্থায়ী প্রকল্প গ্রহন করা হবে। প্রকল্পটি পাশ হলে রাজবাড়ীবাসির নদী ভাঙ্গন আতঙ্ক থাকবে না।