সংবাদ শিরোনাম
গাজীপুরে দীর্ঘ সময় মর্গে লাশ ফেলে রাখার অভিযোগে হামলা এবং ভাংচুর, আটক-৩ | দুর্দান্ত খেলেও ভারতকে হারাতে পারলো না বাংলাদেশ | বুয়েটে বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত ব্যানার থেকে মুছে ফেলা হলো ছাত্রলীগের নাম | ভারতের বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ | ‘বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত’- কাদের | বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সাবেক ৭ এমডিসহ ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা | সাভার থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের এক সদস্য আটক | পাবনায় ছেলের পাথরের আঘাতে বাবার মৃত্যু | বশেমুরবিপ্রবি’র প্রভোষ্ট ও বিভিন্ন অনুষদের চেয়ারম্যানসহ ৭ জনের পদত্যাগ | অবৈধ স্থাপনা সরাতে সাবেক সাংসদ উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ৪ জনকে নোটিশ |
  • আজ ১লা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আকাশে মেঘ দেখলেই ক্লাশ ছেড়ে আশ্রয় খুজঁতে হয় শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের

২:১৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৯ ঢাকা
kalkini pic

এইচ এম মিলন,কালকিনি(মাদারীপুর)প্রতিনিধি : আমরা যখন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্লাশ শুরু করি, যদি হঠাৎ আকাশে মেঘ জমতে দেখা যায় তখন আমাদের শিক্ষার্থীরা ক্লাশ ছেড়ে বৃষ্টিতে ভেজার ভয়ে পাশের অন্য কোন বাড়িতে বা অন্য কোন ভবনে আশ্রয়ে নেয়ার জন্য চলে যেতে হয়। বৃষ্টি থামলে ক্লাশ শুরু করি। আর না থামলে ছুটি দিতে বাধ্য হতে হয়।

এছাড়া দেয়ালের পলেস্তারা দিনে দিনে খশে পড়ছে। যে কোন মুহুর্তে ঘটতে পারে দূর্ঘটনা। এভাবে বছরের পর বছর আমাদের ক্লাশ করতে গিয়ে কষ্ট শিকার করতে হচ্ছে। কথাগুলে চরম আক্ষেপ করে বলেছেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বালীগ্রাম এলাকার ১৮নং বাঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম আজম।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে জরাজীর্ন ক্লাশরুম, আসবাপত্র, খেলার মাঠ ও চেয়ার-টেবিল সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে আমাদের এ বিদ্যালয়টি। এ বিদ্যালয়টি নানা প্রতিকুলতার মধ্যে দিয়েও প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বছরের পর বছর সুনামের সঙ্গে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে অবকাঠামো সংকটের কারনে স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম মারাক্তক বিঘিœত হচ্ছে। এ অবস্থার কথা বার-বার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। কবে না নাগাদ সমস্যা কাটবে তাও জানেনা স্কুল কর্তৃপক্ষ।

স্কুল সুত্র জানায়,স্বাধীনতার আগ থেকে ১৯৪২ সালে তৎকালীন এলাকার বিশিষ্ট সমাজ সেবক আমজাদ আলী খান ৭৯ শতাংশ জমি স্কুলের জন্য দান করেন। ওই সময় এ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।  এরপর প্রায় ৭৭  বছর ধরে বিদ্যালয়টিতে বাঘরিয়া, চিরাইপাড়া, ধানুয়া ও টুবিয়া এলাকার শত-শত শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে আসছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১৯৫জন শিক্ষার্থী  পড়াশুনা করছে। শিক্ষক নিয়মিত ৮ জন উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ৫জন উপস্থিত রয়েছে। কিন্তু স্কুলে অন্তহীন সমস্যা থাকায় শিশুদের পড়ালেখায় মারাক্তকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয় সুত্রে আরো জানাগেছে, বিদ্যালয়টিতে খেলার জন্য বড় কোন মাঠ নেই। সামান্য পরিমান মাঠ থাকলেও বর্ষায় পানিতে  তলিয়ে থাকে। ফলে কোমলমতি শিশুরা বিনোদনের কোন সুযোগ পাচ্ছেনা। বেঞ্চ সংকটের কারনে গাদাগাদি করে দাড়িয়ে-বসে  শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা করতে বাধ্য হয়। এছাড়া বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর একটি গভীর নলকুপ স্থাপন করা হলেও তা বেশির ভাগ অকেজো হয়ে পড়ে থাকে। ফলে বেশিরভাগ সময় শিক্ষার্থীর খাবার পানির সংকট পোহাতে হয়। বহু কষ্ট করে তাদের পানির প্রয়োজন মেটাতে হয়। স্কুলের ভবনটির চালা টিনের হলেও দেয়াল এমন জরাজীর্ণ যে এর চারপাশ ধসে পড়ছে। বৃষ্টি হলে টিনের চালার ছিদ্র দিয়ে গরগরিয়ে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। এ কারনে আকাশে মেঘ দেখলেই বাধ্য হয়ে স্কুল ছুটি দিতে হয়। তাই বৃষ্টি হলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির আর কোন শেষ থাকেনা।

এ ছাড়াও  সরেজমিনে গিয়ে আরো দেখা গেছে বিদ্যালয় সংস্কার না হওয়ার কারন হচ্ছে গত তিন বছর ধরে ওই বিদ্যালয়ের কোন ম্যানেজিং কমিটি নেই। তাই বিদ্যালয় উন্নয়ন খাতে কিছু বরাদ্দ আসলেও তা ফেরত যাচ্ছে। এ বিদ্যালয়ের সমস্যা বিগত দিনের চেয়ে আরো বেশি বেড়ে গেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, ঐতিহ্যবাহি এ বিদ্যালয়টি সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসলেও নানা সমস্যা থাকায় অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের এ স্কুলে ভর্তি না করিয়ে  অন্য কোথাও ভর্তি করাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী নিবির, নাজমিন ও স্বর্না জানায়,  আমাদের স্কুলের অবস্থা খুবই করুন দশা। কারন আকাশে মেঘ দেখলেই ক্লাশ ছেড়ে আমাদের স্কুলের পাশের বাড়িগুলোতে আশ্রয় নিতে হয়। তাহলে বৃষ্টি আমাদের ভিজে যেতে হয়। শিঘ্রই আমাদের বিদ্যালয় সংস্কার করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, স্কুলেটি বিভিন্ন সমস্যা থাকায় শিশুরা স্কুলে  যেতে চাচ্ছেনা। বৃষ্টির সময় ক্লাশ রুমে পানি পড়ে তাই।

এ বিষয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  মোঃ গোলাম আজম বলেন, বিদ্যালয়ের এ সমস্যার কথা বার-বার আমরা উর্ধ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে কালকিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন,  বিদ্যালয়টি সংস্কার করার জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সকল সমস্যার সমাধান শিঘ্রই হয়ে যাবে।