শেখের বিটি হাসিনা পাকাঘর দিছে,আল্লাহ তাক অনেক দিন ব্যাইচা রাখুক

৮:০৯ অপরাহ্ণ | শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯ রাজশাহী
TANORE (RAJSHAHI)

অসীম কুমার সরকার, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি: কোনদিন নিজ ভিটায় একটি পাকা ঘর হবে, তাতে বসবাস করতে পারবেন এ কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি রাজশাহীর তানোর উপজেলার সরনজাই ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের হুরজান বিবি।

গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা/টিআর) কর্মসূচীর আওতায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দ (গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় অর্থ বছর ২০১৮-১৯) আওতায় তিনি একটি সুন্দর পাকা ঘর পেয়েছেন। শুধু হুরজান বিবি নন, তাঁর মতো তানোর উপজেলার আরো ১৫টি হতদরিদ্র পরিবার পেয়েছেন মাথা গোঁজার ঠাঁই।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি বাড়ি নির্মাণ কাজে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫শত ৩১ টাকা করে। দুই কক্ষ বিশিষ্ট রুম, একটি শৌচাগার, একটি রান্নাঘর ও একটি করিডোর । প্রথম ধাপে তানোর উপজেলার ৭ ইউনিয়নে ১৬ পরিবার এই মাথা গোঁজার ঘর পেল। কলমা ইউনিয়নে ৪টি, বাধাইড় ইউনিয়নে ২টি, পাঁচন্দর ইউনিয়নে ২টি, কামারগাঁ ইউনিয়নে ২টি, তালন্দ ইউনিয়নে ২টি, সরনজাই ইউনিয়নে ২টি ও চাঁন্দুড়িয়া ইউনিয়নে ২টি। উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা কাজ বাস্তবায়ন করেছে।

সরনজাই ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের হুরজান বিবির সাথে সরেজমিনে গত শুক্রবার কথা হয়। স্বামী হারা এই বিধবা নারী মাথা গোঁজার একটু ঠাঁই পেয়ে দারুণ খুশি। তিনি আনন্দে কেঁদে বলেন, শেখ হাসিনা ও তার পরিবার ভালো থাকুক। আল্লাহ যেন তাকে আরও বাঁচিয়ে রাখুক। হুরজান বিবির মতো আনন্দিত একই পরিবারের দিনমজুর একমাত্র সন্তানও। পাঁচন্দর ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের ভিক্ষুক মমেনা বিবি বলেন, ‘ভিক্ষা কইর‌্যা সংসার চালাই বাবা। আমি পাকা ঘর কুন্ঠে বানাবো। ভিক্ষা কইর‌্যা প্যাট চালাই। শেখের বিটি হাসিনা পাকাঘর দিছে, তাতে আমি কি যে খুশি আমি বুইল্যা বুঝাতে পারবো না। আল্লাহ তাক অনেক দিন ব্যাইচা রাখুক।’

তানোর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: তারিকুল ইসলাম বলেন, টিআর/কাবিখা বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে নির্মিত গৃহহীনদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার দুর্যোগ সহনীয় ঘর। সরেজমিনে তথ্য নিয়ে সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে দরিদ্র পরিবার বাছাই করা হয়। যাদের বাছাই করা হয়, তাদের ঘর নির্মাণের সামর্থ্য ছিল না। প্রথম ধাপের ঘরগুলোতে ভালো কাজ হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা: নাসরিন বানু বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শে গৃহহীনদের ঘরগুলোকে দৃষ্টিনন্দন করে তৈরি করা হয়েছে। ঘরগুলো যেন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে হয় সে বিষয়ে কঠোর পরিশ্রম করেছে গৃহনির্মাণ সংশ্লিষ্ট কমিটি। ইতিমধ্যে ১৬টি ঘরের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এবছর নতুন আরো ১৯টি ঘরের বরাদ্দ পেয়েছি। উপকারভোগীদের বাছাই করে তালিকা তৈরির কাজ চলছে। বাছাই শেষ হলে দ্রুত সেগুলোতে কাজ শুরু করা হবে।’