ভয়ঙ্কর টি ব্যাগ, চায়ের সঙ্গে ‘বিষ’ পান!

১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯ লাইফস্টাইল

লাইফস্টাইল ডেস্ক- চা আমাদের প্রতিদিনের সঙ্গী। কাজে, অবসরে, গল্পে বা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা জমাতে চা আমাদের চাই চাই। আর তাই দ্রুত আড্ডা জমাতে আমরা আলসেমি করে চাপাতি না ফুটিয়ে বরং টি-ব্যাগ ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করে থাকি। কিন্তু আপনি জানেন কি টি-ব্যাগ সবসময় অস্বাস্থ্যকর? এতে খুব নিরবেই মৃত্যুর দিকে ঝুঁকছেন আপনি!

সকলেই তো জানি টি-ব্যাগ কাগজের তৈরি। তবে চায়ের সঙ্গে প্লাস্টিক শরীরে যাচ্ছে কীভাবে? কিন্তু সকলেই যা জানি না তাহলে, টি-ব্যাগ কাগজের তৈরি হলেও সেটি সিল করা হয় পলিপ্রোপাইলিন দিয়ে। এই পলিপ্রোপাইলিন এক ধরনের প্লাস্টিক।

কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় এই নিয়ে গবেষণা শুরু করে চমকে ওঠেন। তারা দেখতে পান, চায়ের সঙ্গে আসলেই ‘বিষ’ পান করছে মানুষ। এখন কোনো কোনো কোম্পানি আবার নেটের টি-ব্যাগ তৈরি করে। কিন্তু সেই নেটের অন্যতম উপাদানও প্লাস্টিক। সুতরাং এই টি-ব্যাগগুলোও একই রকম ক্ষতিকর।

এক কাপ গরম পানিতে টি-ব্যাগ ডোবালে কতটা প্লাস্টিক মিশছে, তা জানতে একটি পরীক্ষা করেন ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। তারা বাজার থেকে কেনেন চার রকমের টিব্যাগ। পরে টি-ব্যাগগুলো কেটে চায়ের গুঁড়ো বের করে নেন। তারপর ফুটন্ত গরম পানিতে সেই খালি ব্যাগটি ফেলে দেন। অনুবীক্ষণ যন্ত্রে তারা দেখেন, এক–একটি টি-ব্যাগ থেকে ১১৬০ কোটি মাইক্রোপ্লাস্টিক খণ্ড এবং ৩১০ কোটি ন্যানো প্লাস্টিক খণ্ড পানিতে মিশছে। দেখে তো রীতিমতো গবেষকরা চমকেই ওঠেন।

গবেষক নাথালি তুফেঙ্কজি জানিয়েছেন, টেবিল সল্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক মিশে থাকে। এক গ্রাম লবণে ০.০০৫ মাইক্রোগ্রাম প্লাস্টিক মিশে থাকে। সেখানে এক কাপ চায়ে ১৬ মাইক্রোগ্রাম প্লাস্টিক মেশে।

এই প্লাস্টিক শরীরে কতটা ক্ষতি করছে, তা জানার জন্য আরো একটি পরীক্ষা করেন গবেষকেরা। কয়েকটি মাছিকে এই টি-ব্যাগ ডোবানো পানি পান করানো হয়। এতে তারা যদিও মারা যায়নি, তবে তাদের ব্যবহারে দারুণ পরিবর্তন দেখা যায়। এই নিয়ে আরো গবেষণা চলছে।

টি-ব্যাগ ডোবানো এক কাপ চা মুখে তোলার আগে এখনই সতর্ক হোন। মুহূর্তের মধ্যে শরীর চাঙ্গা করে দেয়া টি-ব্যাগ ভবিষ্যতে আপনার জন্য মৃত্যু ডেকে আনছে কিনা, তা কে জানে!

এর আগে বোতলজাত পানিতে প্লাস্টিকের প্রভাব নিয়ে পর্যালোচনা করেছিল জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এমনকি গতে মাসে সংস্থটি বলেছিল, মাইক্রোপ্লাস্টিকগুলো বর্তমানে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এই প্লাস্টিক কীভাবে মানব স্বাস্থ্যে প্রভাব বিস্তার করে, এ সম্পর্কে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

ডব্লিউএইচও-এর জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও স্বাস্থ্য নির্ধারণ বিভাগের পরিচালক মারিয়া নেইরা বলেন, আমাদের জরুরিভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্বাস্থ্যের প্রভাব সম্পর্কে আরও জানতে হবে। কারণ এগুলো আমাদের পনীয়ের সঙ্গে সর্বত্র রয়েছে।