রাজশাহীতে শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় ইলেকট্রিক সিগারেট, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি!

১২:২৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯ রাজশাহী

ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী প্রতিনিধি: ধুমপান বা সিগারেট নেশা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারী ভাবে নির্দেশনা আছে সিগারেট বিক্রয় প্রচারে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন বা লিফলেট অথবা পোষ্টার লাগানো যাবে না। সকল ধরনের প্রচার প্রচারণা বন্ধ থাকবে। আইন আছে বাস্তবায়ন নেই। শিক্ষার্থীদের কাছে কৌশলগত কারনে সিগারেট নয়, ইলেকট্রিক সিগারেট অধিক জনপ্রিয়।

জেলার বিভিন্ন অভিজাত এলাকার বাসিন্দা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় ই-সিগারেট। ই- সিগারেট সেবনে স্বাস্থ্যে ঝুকি দ্বিগুন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনবহুল এলাকা, বাসষ্টান্ড, রেলওয়ে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারী কার্যালয় উন্মুক্ত এলাকায় ধুমপান না করার নির্দেশনা থাকলেও, তার প্রনয়ন হচ্ছে না।

২০১৮ সালের জরিপ এর মাধ্যমে জান যায়, এজেলার ধুমপান ছিল ১০ শতাংশ। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ৩০টি ওর্য়াডের পান-সিগারেটের দোকান ছিল ২ হাজার ৬শত ৯৯টি। বর্তমান সিগারেটের নতুন অনেক দোকান বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশ ও সমাজের বিভিন্ন অপরাধ দমনে ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়, রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতা, ডাক্তার, প্রকৌশলী, বিশ্লেষক, সাংবাদিক, লেখক ও পুলিশ। এই শ্রেনীর মানুষ গুলো যখন নেশায় জড়িত থাকে তখন সাধারনদের কাছে এই ধুমপান নেশা কোন অপরাধ নয়। একটি পরিবারে অভিভাবক তার সন্তান বা কাজের লোক দিয়ে সিগারেট ক্রয় করাচ্ছেন। শিক্ষক ব্যবহার করছেন তার ছাত্রদের, কর্মকর্তারা তার কর্মচরীদের মাধ্যমে সিগারেট ক্রয় করাচ্ছেন এবং অফিসের কোন একটি কক্ষে ধুমপান করছেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, উচ্চ-বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাদ যাবে কেন। এমনই বক্তব্য দিয়েছেন বিভিন্ন এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা।

এবিষয়ে বন্ধুর ছলে তথ্য সংগ্রহকালে কিছু শিক্ষার্থীরা জানা যায়, এই ধুমপানকে আধুনিক করে ই-সিগারেটের মাধ্যমে তারা নেশা করছেন। বেশিরভাগ কলেজ এবং উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ই-সিগারেট সেবন অনেক বেড়েছে। শুধু তাই নয় আনন্দ করার ছলে অনেক ছাত্রীরাও তাদের ছেলে বন্ধুর সাথে সঙ্গ দিচ্ছে বলেও প্রমান মিলছে।

শিক্ষার্থীরা বলছে, এই ই-সিগারেট তাদের জন্য অনেক বেশি মূল্য তবে একবার কিনতে পালে অনেক দিন ধুমপান করা যায়। তবে বিক্রেতারা জানায়, ইলেকট্রিক সিগারেট ২ হাজার থেকে শুরু করে ৫-১০ এবং অরো বেশি দামের আছে। সিগারেট কোম্পানীর মাধ্যমে তারা ই-সিগারেট গুলো বাজারে বিক্রয় করছেন।

তবে রাজশাহী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উ-পরিচালক লুৎফর রহামান বলেন, ই-সিগারেট বা ভ্যাপিং তেমন প্রচলন নেই এজেলা শহরে। কিন্ত সকল ধরনের ধূমপানে স্বাস্থ্যের ঝকি আছে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস এবং জেলা সহকারী পলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম প্রতিবেদকে জানান, ই-সিগারেট নিষিদ্ধ কোন পন্য নয়। যার কারনে আইন শৃঙ্খলা বাহীনির ও সিমাবদ্ধতা আছে এবং ধুমপানের বিষয়ে আইনের বিভিন্ন বিধি নিষেধ অছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এই নিয়ে প্রায় সময় অভিযান পরিচালনা করছে। তবে শিক্ষার্থীদের বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে সচেতন হতে হবে।

রাজশাহী মেডিকলে কলেজের সহকারী পরিচালক সাইফুল ফেরদৌস মোঃ খায়রুল আতার্তুক জানান, যে কোন ধরনের ধুমপান শরীরের জন্য ক্ষতি কর। তবে ইলেকট্রনিক সিগারেট বা ই-সিগারেট ব্যটারী চালিত একটি যন্ত্র। যার মধ্যে তরল নিকোটিনের দ্রবণ মজুত থাকে। সেবকরা তাদের ইচ্ছা মত ধুমপান করেন। ই-সিগারেট সাধারন সিগারেট চেয়ে কিডনি এবং হার্ট খুব দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুকি রয়েছে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, উন্মুক্ত স্থানে ধুমপান করা যাবে না। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশে পাশের সিগারেটের দোকান গুলা অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার মাধ্যমে এর প্রতিকার কিছুটা কমতে পারে। এছাড়া ইলেকট্রনিক সিগারেট বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের মাধ্যমে তদন্ত করার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। সর্বপরি প্রত্যেক অভিভাকদের সচেতন হওয়াটা অধিক জরুরী।