মহাজনের দাদনের জালে জেলেদের ইলিশ আটকা!

৯:০৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯ বরিশাল
Patuakhali

কৃষ্ণ কর্মকার,বাউফল (পটুয়াখালী)প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার জেলেরা মহাজনের দাদন চক্রের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ইলিশের দৈনিক বাজার মূল্যের থেকে কম মূল্যে মহাজনের বেঁধে দেওয়া দামেই জেলেদের ইলিশ বিক্রি করতে হচ্ছে মহাজনের কাছে। জেলোরা একদিকে যেমন দাম কম পাচ্ছে অন্য দিকে প্রতি কেজি মাছে ১শ গ্রাম করে কম দেওয়া হয়।

মাঝে মধ্যে যদি মহাজনের কাছে ইলিশ বিক্রি না করে একটু বেশী লাভের আশায় জেলেরা অন্যত্র বিক্রি করে তাহলে তাদের উপড় নেমে আসে অমানবিক আচরন। এমনই অভিযোগ উপজেলার অধিকাংশ জেলেদের। অবশ্য অমানবিক আচরনের অভিযোগ অস্বিকার করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মহাজন জানান, আমরা জেলেদের কোটি কোটি টাকা বছরের পর বছর দাদন দেই একটু লাভের আশায়। কিন্তু সেই মাছ যদি আমাদের না দিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে সেটাতো দুঃখজনক।

জানাগেছে. বাউফল উপজেলার কালাইয়া, কেশবপুর, বগা, ধুলিয়া, কালিশুরী ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার জেলে নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। মাছ ধরা ও বিক্রি করাই তাদের একমাত্র উপার্জনের পথ। কয়েক বছর ধরে তেঁতুলিয়া নদীতে জাটকা নিধন বন্ধ ও মা ইলিশ রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় ইলিশ আমদানি কিছুটা বেড়ে যায়। কিন্তু কয়েক বছর ধরে জেলেদের জালে মাছ ধরা পড়লেও দাদনদারদের কারনে জেলেদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

 উপজেলা জেলে অধ্যুসুত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহাজনদের কাছে দাদনের কারণে জেলেরা বাঁধা থাকছে। ফলে ইলিশের দাম বাড়লেও মহাজনদের বেঁধে দেওয়া দামেই তাদের বিক্রি করতে হচ্ছে। কিছু সংখ্যক জেলেদের নিজস্ব ইঞ্জিনচালিত নৌকা, ট্রলার, জাল থ্কালেও বাকিরা মহাজনদের কাছ থেকে নৌকা ও ট্রলার ভাড়া অথবা টাকা নিয়ে নৌকা-ট্রলার তৈরী করে নদীতে মাছ শিকার করতে যায়। এসব জেলেরা মহাজনদের দাদনের জালে জিম্মি হয়ে পড়ছেন।

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের জেলে বেল্লাল বেপাড়ি জানান, বছরের পর বছর ধরে তারা দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি। তাদের পক্ষে না আছে প্রশাসন না আছে জনপ্রতিনিধি। সরকারি বা বেসরকারি ব্যাংক জেলেদের কম সুদে ঋণ দিলে তারা আর দাদন ব্যবসায়ীদের দ্বারস্থ হতেন না। ব্যাংকের ঋণ না পেয়ে মহাজনের কাছ থেকে দাদনে টাকা নিতে বাধ্য হন তারা। এ ছাড়া জাল, নৌকাও নিতে হয় মহাজনের কাছ থেকে। অনেক সময় নদীতে বেশি মাছ ধরা পড়লে এবং বাজারে মাছের দাম চড়া থাকলেও জেলেদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না।

চড়ওয়াডেল এলাকার বাদশা মাঝি বলেন, তেুলিয়া, লোহালিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর পাড়ে মহাজনদের বেঁধে দেওয়া দামেই ইলিশ বিক্রি করতে হয়। বাজারে এক কেজী সাইজের ইলিশের দাম ১৫০০ টাকা হলেও দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতে হয় ১০০০-১২০০ টাকা।

উপজেলার একাধিক মহাজন জানান, দাদানের প্রচলন ও কেজিতে ১শ গ্রাম বাদ দেওয়া রেওয়াজটি দীর্ঘ দিনের। ‘ জেলেদের লক্ষ লক্ষ টাকা দাদন নিয়ে যদি মাছ না দেয় তাহলে আমাদের চলবে কি করে। ওপর দিকে নদীতে যখন মাছ না থাকে তখন তো জেলেদের আমরাই দৈনিন্দন বাজারের টাকার জোগান দেই। বিনিয়োগ করি লাভের আশায়।