থানার সামনে প্রকাশ্যে গায়ে আগুন দেয়া সেই কলেজ ছাত্রী আর নেই

১২:৫৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, অক্টোবর ২, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- বিয়ের পর স্বামীর পারিবারের স্বীকৃতি না পেয়ে রাজশাহীতে থানার সামনে প্রকাশ্যে নিজের শরীরে আগুন দেওয়া লিজা রহমান (১৯) মারা গেছে।

বুধবার (২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। লিজার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন ঢামেকের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপজ ডা. নাসির উদ্দিন।

ডা. নাসির উদ্দিন জানান, লিজার শরীরের ৬৩ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত একটার দিকে বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়। সেদিন থেকেই তাকে হাইডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়।

লিজা গত শনিবার দুপুরে রাজশাহী নগরীর শাহমখদুম থানার সামনে রাজশাহী মহিলা টিটিসির সামনে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

লিজা রহমানের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায়। তিনি রাজশাহী মহিলা কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তার স্বামী চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার সাখাওয়াত হোসেন। তারা নগরীর পবা নতুন পাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানিয়েছিলেন, লিজা প্রথমে থানায় গিয়ে তার স্বামীর সাথে বনিবনা হচ্ছে না বলে জানান। সেখানে তিনি তার স্বামীর সাথে সমঝোতার কথাও বলেন। পরে ওসি তাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে অভিযোগ করতে বলেন। পরে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে গিয়ে কথা বলেন লিজা। সেখানে ঘটনা বলার পর ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের পক্ষ থেকে তার কাছে জানতে চাওয়া হয় তিনি তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন কি না। এসময় লিজা বাইরে থেকে আসছি বলে সেখান থেকে বেরিয়ে যান।

এরপরই তিনি থানা থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে কেরোসিন কিনে গায়ে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে স্থানীয়রা লিজাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।