সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মা-বাবা কেউ নিতে চান না ৪ বছরের শিশুটিকে

৬:৪৩ অপরাহ্ণ | শনিবার, অক্টোবর ৫, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- পৃথিবীতে প্রাপ্ত কিংবা অপ্রাপ্ত মানুষের কাছে সবচেয়ে ভালোবাসা-অধিকারের স্থান হচ্ছে বাবা-মা। আর বাবা-মার কাছেও সর্বোচ্চ স্নেহ-মমতার মানুষ হচ্ছে নাড়ি ছেড়া ধন। কিন্তু চার বছরের ছোট্ট শিশু মাসান আরদিতের আপন কে? তার বাবা-মাই যে তাকে রাখতে চায় না।

পিতা-মাতার এমন নিষ্ঠুরতা বিস্মিত আদালতও। বিষয়টি নিয়ে পরস্পরকে দুষছেন দুই পক্ষের আইনজীবী। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা বিপর্যস্ত করে তুলছে শিশুদের জীবন।

ঢাকার সিএমএম আদালতে তার মা-বাবা জানিয়েছেন, মাসানকে তারা রাখতে চান না। বিবাহ বিচ্ছেদের পর, বাবা উঠেছেন একটি মেসে। সেখানে শিশুটিকে রাখার পরিবেশ নেই। আর সন্তানের খরচ চালানোর অক্ষমতার কথা বলছেন মা।

এমন ঘটনা অবাক করে দেয় উপস্থিত সবাইকে। এ সময় আদালত প্রশ্ন রাখেন, বাবা-মা না দেখলে ছোট্ট শিশুটির দায়িত্ব নেবে কে?

মাসানের মা সানজিদা শারমিন বলছেন, বাচ্চার বাবা তার কোনই খোজ নেই না, একবার দেখতে আসে না। ভরণপোষন ও দিচ্ছে না। তাহলে বাচ্চাটাকে আমি কিভাবে রাখবো? তবে, বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে চাননি বাবা মাহফুজ ইসলাম।

এদিকে দুপক্ষের আইনজীবীরাও একে অপরের উপর দোষ চাপালেন। মাসানের বাবার আইনজীবী ইকবাল আহাম্মেদ খান বলেন, বাচ্চা নাবালক হলে ৭ বছর বয়স পর্যন্ত আইন অনুযায়ী মার কাছেই থাকবে।

অপরদিকে মাসানের মায়ের আইনজীবী আকলিমা ইসলাম বলছেন, বাচ্চা মা রাখতে পারবে কিন্তু বাচ্চার খরচ অবশ্যই বাবাকে দিতে হবে, না দিলে ভিন্নপথ অবলম্বন করতে হবে আমাদের।

আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ফাওজিয়া কর্মী ফিরোজ বলছেন, বিচ্ছেদের মামলা বিষাক্ত করে তুলছে এমন শিশুদের জীবন। তিনি বলছেন, আমাদের আদালত নারী ও শিশু বান্ধব নয়। আদালত দেখতে চান বলে অনেকেই ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে আসেন, কিন্তু সেখানে বাচ্চা নিন্যে ঢোকার মত পরিবেশ থাকে না।

জানা যায়, ২০১৩ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন এ দম্পতি। তবে এরপর সময় যত গড়িয়েছে, দাম্পত্য কলহে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছে। যার ফলস্বরূপ কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে চার বছরের শিশু মাসান আরদিত।

Loading...