পদ্মার ভাঙনে মাদারীপুরে ৬ শতাধিকের বেশি পরিবার ঘর-বাড়ি ছাড়া

৭:২৩ অপরাহ্ণ | শনিবার, অক্টোবর ৫, ২০১৯ ঢাকা, দেশের খবর

মেহেদী হাসান সোহাগ, স্টাফ রিপোর্টার, মাদারীপুর: মাদারীপুর জেলার শিবচরের বন্দোরখোলা ইউনিয়নের কাজিরসূরা এলাকায় পদ্মার ভাঙন ঠেকাতে নদীতে ফেলা হচ্ছে বালু ভর্তি বস্তা। কয়েক সপ্তাহ ধরে নদীতে এ জিও ব্যাগগুলো ফেলা হচ্ছে। চলতি বছর প্রথম দফার বন্যায় ভাঙনের হাত থেকে জনপদ বাঁচাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডে আড়াইশ কেজি করে বালু ভর্তি বস্তা ফেলছে।

শনিবার দুপুর পর্যন্ত ৯৫ হাজার বালু ভর্তি বস্তা ফেলা হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার(৪ অক্টোবর) দুপুর থেকে বাল্কহেড ও ট্রলার মিলিয়ে মোট ৭ টি নৌযান জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু করেছে। এতে করে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ হাজার বালুভর্তি ব্যাগ ফেলা সম্ভব হবে। এছাড়া গত কয়েক সাপ্তাহে পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারনে ৪টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়ে ৬শ পরিবার ঘর-বাড়ী ছাড়া হয়েছে।

জানা যায়, পদ্মানদীতে গত এক সপ্তাহ ধরে দ্বিতীয় দফায় পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙন তীব্র আকার ধারন করেছে। দ্বিতীয় দফার ভাঙনে চরাঞ্চলের চার ইউনিয়নে ৬ শতাধিকের বেশী পরিবারের ঘরবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, সড়ক, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, বাজারসহ নানা স্থাপনা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

এদিকে ভাঙনের মুখে রয়েছে বন্দোরখোলা ইউনিয়নের কাজিরসূরা এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, তিনতলা একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি বাজার, মূল ভূ-খন্ডে যোগাযোগের একমাত্র সড়কসহ নানা স্থাপনা। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিও ব্যাগ ডাম্পিং চলছে এ এলাকায় ।

বন্দোরখোলা এলাকার রওশাদ হাওলাদার জানান, আমাদের ঘর-বাড়ী ভেঙ্গে গেছে, এখন শহরের এসে বাসা ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে। আমি না হয় বাসা ভাড়া করে থাকতে পারছি যাদের দিন আনে দিন খায় তাদের অবস্থায় কি হবে? অনেকেই রাস্তার পাশে কোন রকম ঘরবানিয়ে এবং অনেকেই এই জেলা ছেড়ে চলে যাচ্ছে।

মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম সাহা বলেন, এ বছর প্রথম দফা বন্যায় ভাঙনের হাত থেকে এ এলাকা রক্ষায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। প্রথম দফা বন্যায় আমরা ভাঙন ঠেকাতে সক্ষম হয়েছি। তবে দ্বিতীয় দফা বন্যায় এ এলাকায় ভাঙনে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চারটি বাল্কহেড ও একটি ট্রলারের সাথে আজ আরো দুটি ট্রলার যুক্ত হয়েছে আজ। প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ হাজার বালু ভর্তি ব্যাগ ফেলতে আমরা সক্ষম হবো।’

তিনি আরো বলেন, ‘অধিক পরিমান জিও ব্যাগ ফেলতে শ্রমিকও বাড়ানো হয়েছে। আশা করছি ভাঙন রোধ করা সক্ষম হবে।’

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, পদ্মা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় আমাদের শিবচরের ৪টি ইউনিয়ন পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ২শ বেশীর ঘর-বাড়ী নদীভাঙনে চলে গেছে। এছাড়া কয়েকটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদী ভাঙনে পড়েছে। আমরা সরকারি ভাবে বন্যা ও নদী ভাঙনে কবলিত অসহায়দের ত্রান দিয়েছি এবং সরকারের কাছে আরও বরাদ্ধ চাওয়া হয়েছে সেগুলো আসলে আমরা আমার সেইগুলো বিতরণ করবো।