ফেনীতে প্রতিমা বিসর্জনের সময় দু’পক্ষের মারামারি

১১:৩০ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, অক্টোবর ৯, ২০১৯ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

আবদুল্লাহ রিয়েল, ফেনী প্রতিনিধি- ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মুহুরী প্রকল্প এলাকায় বড় ফেনী নদীর পূর্ব পাড়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শেষে প্রতিমা বির্সজনকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ ঘটনায় মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে দুই মন্দিরের ভক্তদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ, স্থানীয় লোকজন ও মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুরে সোনাগাজী কেন্দ্রীয় মন্দিরে পূজা শেষে প্রতিমাগুলো বড় ফেনী নদীতে বিসর্জনের জন্য মুহুরী প্রকল্প এলাকায় ভক্তরা নিয়ে যাচ্ছিল।

একই সময়ে সোনাপুর এলাকায় চর সোনাপুর বিষ্ণু দুর্গা মন্দিরের প্রতিমাগুলোও একই স্থানে বিসর্জনের জন্য পায়ে হেঁটে রওয়ানা দেয় মন্দির কমিটির লোকজনসহ স্থানীয়রা।

সোনাগাজী কেন্দ্রীয় মন্দিরের প্রতিমা বহনকারী গাড়িগুলো সোনাপুর বাজার অতিক্রম করার সময় গাড়ির সঙ্গে চাপা লেগে চর সোনাপুর মন্দিরের একটি মাইক ভেঙে যায়। বিষয়টি নিয়ে উভয় মন্দিরের লোকজনের সঙ্গে শুরু হয় কথা কাটাকাটি।

এর এক পর্যায়ে সোনাপুরের লোকজন সোনাগাজীর গাড়িগুলোকে যেতে বাঁধা দিয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। পরে উভয় মন্দিরের লোকজনের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে ভক্তদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি ঘটনা ঘটে।

প্রতিমা বিসর্জনের কাজে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর উভয় পক্ষকে শান্ত করে বিসর্জনের জন্য পায়ে হেঁটে দীর্ঘ চার কিলোমিটার দূরে মুহুরী প্রকল্প এলাকায় গিয়ে আদালাভাবে বিসর্জনের ব্যবস্থা করেন।

এসময় দীর্ঘ এক সময় ধরে সোনাগাজী-মুহুরী প্রকল্প এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সব কিছু স্বাভাবিক করে দেয়।

সোনাগাজী কেন্দ্রীয় মন্দিরের পূজা কমিটির আহবায়ক বিদ্যুৎ মহাজন বলেন, প্রতিমা নিয়ে মুহুরী প্রকল্প এলাকায় যাওয়ার পথে তাঁদের একটি গাড়ির চাপা লেগে সোনাপুর মন্দিরের একটি মাইক ভেঙে যায়। তিনি নিজে ক্ষমা চেয়ে মাইকটির ক্ষতিপুরণ দেবেন বলে আশ্বস্ত করার পরও সোনাপুরের লোকজন তাদের ভক্তদের উপর চড়াও হয়ে হাতাহাতি ও মারামারিতে লিপ্ত হয়।

সোনাপুর বিষ্ণু দুর্গা মন্দিরের পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিমাই চন্দ্র দাস বলেন, কোন কারণ ছাড়াই সোনাগাজী কেন্দ্রীয় মন্দিরের লোকজন তাদের একটি মাইক ভেঙে কয়েকজন ভক্তকে মারধর করেছে।

জানতে চাইলে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সমর দাস বলেন, দু’টি মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জনের সময় ভক্তদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। কি কারণে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলো বিষয়টি উভয় মন্দিরের লোকজনদের সঙ্গে বসে সমাধান করা হবে।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মঈন উদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে তিনি থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তিনি বলেন, সোনাপুর এলাকার ঘটনাটি সমাধান করে উভয় মন্দিরের প্রতিমাগুলো মুহুরী প্রকল্প এলাকায় নেওয়ার পর কার আগে কে বিসর্জন দিবে এটাকে কেন্দ্র করে আবারও উভয় মন্দিরের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতি হলে পুলিশ বাধ্য হয়ে লাঠি চার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর বিকেল চারটায় আলাদাভাবে উভয় মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন শেষে সবাইকে যার যার এলাকায় পাঠিয়ে দেন।

Loading...