সংবাদ শিরোনাম
কাপাসিয়ায় আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত | আজ তুমি নেই অ্যান্ড ‘আই ডোন্ট কেয়ার: তাহসান | মহানবী (সা:) কে নিয়ে কটুক্তি, কুড়িগ্রামে চরম উত্তেজনা | ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়ে নিজের মন্তব্যের পক্ষে সাফাই গাইলেন শাজাহান খান | মোবাইল কিনলেই সাথে পেঁয়াজ ফ্রি! | পেঁয়াজ ছাড়া রান্না হলে আওয়ামী লীগ ছাড়াও দেশ চলবে: রাঙ্গা | নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রনে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ | বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে: রাষ্ট্রপতি | হাসপাতালে চেয়ার না পেয়ে নিজের কাঁধেই বসালেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে! | সাপাহারে সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশকালে ৩ যুবক আটক |
  • আজ ২৫শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘জীবিত দেইখাও বাঁচাইতে পারি নাই, আমারে মাফ কইরা দিস ভাই’ (ভিডিও)

৭:২৫ অপরাহ্ণ | বুধবার, অক্টোবর ৯, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- বুয়েটের শেরেবাংলা হলে থাকেন আরাফাত ও মহিউদ্দিন। এই হলেই বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনে নিহত আবরার ফাহাদের মৃত্যুর আগ মুহূর্তের প্রত্যক্ষদর্শী তারা। তাদের আফসোস আর কয়েক মিনিট আগে বেরোলে তারা আবরারকে হয়তো বাঁচাতে পারতেন।

বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আবরারকে পিটিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় সিঁড়িতে ফেলে রেখে যায়। কিছুক্ষণ পর মহিউদ্দিন তাকে দেখেন কাতরাতে। আর আরাফাত যখন আবরারকে দেখেন, তখন তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেছে।

বুধবার বেলা দেড়টার দিকে বুয়েটের এই দুই ছাত্র প্রতিবাদী বিক্ষোভ সমাবেশে ওই রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় সেখানে উপস্থিত আরও অনেকে ফুপিয়ে ওঠেন।

আরাফাত ও মহিউদ্দিন পড়ালেখা করে রাত আড়াইটার দিকে কয়েক মিনিট আগে-পরে বেরিয়েছিলেন খাবারের জন্য। তারা সিঁড়ির কাছে দেখেন কেউ একজন কাতরাচ্ছেন। এ সময় ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, ‘ও নাটক করতাছে’। তারা ভাবতেও পারেননি কাউকে মেরে এখানে ফেলে রাখা হয়েছে।

এখন আফসোস আর অনুতাপের অনলে জ্বলছেন দুজন। ঘুমাতে পারছেন না কেউ।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে আরাফাত বলেন, ‘পড়া শেষে রাতে নিচে খাবার আনতে বেরিয়েছিলেন তিনি। তখনই দেখেন তোশকের মধ্যে একজন পড়ে আছেন। তখনো তাঁর চিন্তায় আসেনি এ রকম হতে পারে। তার ধারণা হয়েছিল, হয়তো কেউ মাথা ঘুরে পড়ে গেছে।’

আরাফাত বলেন, ‘খোদার কসম, এক সেকেন্ডের জন্যও মাথায় আসেনি এভাবে কাউকে মারা হতে পারে।’ তিনি বলছিলেন, যখন আবরারের হাত ধরেন, তখন হাত পুরো ঠান্ডা, পা ঠান্ডা। শার্ট-প্যান্ট ভেজা। তোশক ভেজা। মুখ থেকে ফেনা বের হয়েছে।

‘তখন ওকে বাঁচানোর জন্য বুকে চাপ দিই। হাতে চাপ দিই। আশপাশের সবাইকে বলি, কেউ একজন ডাক্তারকে ম্যানেজ কর। এরপর ডাক্তার আসল। ডাক্তার দেখে বলেন, ১৫ মিনিট আগেই সে (আবরার) মারা গেছে।’

আফসোস করে কাঁদতে কাঁদতে আরাফাত বলছিলেন, ‘তিন-চারটা মিনিট আগে যদি খাবার আনতে যাইতাম, তাহলে পোলাডারে বাঁচাইয়া রাখতে পারতাম। এই তিন মিনিটের আফসোসে তিন দিনে তিন ঘণ্টাও ঘুমাইতে পারি নাই।’

আরাফাত এ বক্তব্য দেওয়ার পরপরই মহিউদ্দিন বলছিলেন, ‘আরাফাতের তো তিন মিনিটের আফসোস আছে, আর আমার আছে অনুতাপ।’

আরাফাত ফেলে রাখার দৃশ্য দেখার বর্ণনা দিয়ে বলেন, তখন আড়াইটার মতো বাজে। তিনি খেতে বের হয়েছেন। তখন দেখেন আবরার কাতরাচ্ছেন। তখনো ছাত্রলীগ নেতা জিয়ন বলছিলেন, ‘ও (আবরার) নাটক করতাছে।’ নিষ্ঠুরতার এই বর্ণনা দিতে দিতে মহিউদ্দিন আবারও কেঁদে ফেলে বলেন, ‘আমি ওরে বাঁচাইতে পারিনি। মাফ করে দিস, ভাই। আমারে সবাই মাফ কইরা দিস। আমি জীবিত দেইখাও ওরে বাঁচাইতে পারি নাই।’

সেই ভিডিও দেখুন এখানে- 

Loading...