টাঙ্গাইলে অন্তঃসত্তা মা ও মেয়েকে গলা কেটে হত্যা

৮:৫৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, অক্টোবর ১৩, ২০১৯ ঢাকা
Tangail Death

মোল্লা তোফাজ্জল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : টাঙ্গাইল শহরের ভাল্লুককান্দি এলাকায় ৭ মাসের অন্তঃসত্তা লাকি বেগম (২২) ও তার চার বছরের শিশুকন্যা আলিফাকে জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা ওই এলাকার আল আমিনের স্ত্রী ও কন্যা।

স্থানীয়রা জানায়, লাকীর স্বামী আলামিন এলাকার আসাদ মার্কেটে মোবাইল ফোন-ফ্যাক্স এবং বিকাশের ব্যবসা করেন। ব্যবসার কারণে প্রায়ই তিনি মধ্যরাতে বাড়িতে ফিরতেন। ওই বাড়িতে আল আমিন তার স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। দুর্বৃত্তরা আলামিনের স্ত্রী ও কন্যাকে হত্যার পর তার ঘরে থাকা বিকাশ ও বিদ্যুৎ বিলের আট লাখ টাকা নিয়ে যায় বলে আলামিন জানিয়েছেন। শিশু আলিফা কচুয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী।

আল আমিন জানান, শনিবার রাত প্রায় সাড়ে ১১টার দিকে বাড়িতে গিয়ে দেখেন গেটটি খোলা। ঘরের ভেতরে উচ্চশব্দে টেলিভিশন চলছে। এ সময় তিনি বাড়ির ভিতরে ঢুকতেই উঠানে প্রথমে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুকন্যা আলিফাকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দেন। চিৎকারে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে এসে বাড়ির উঠানে রক্তাক্ত অবস্থায় তার স্ত্রী লাকীকেও পড়ে থাকতে দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই লাশটি দুটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এদিকে মা-মেয়ের হত্যাকান্ড নিয়ে রহস্যর গন্ধ পাচ্ছে আইনশৃংখলা বাহিনীসহ আশে পাশের এলাকার মানুষ।

লাকি বেগমের মামা ফেরদৌস হিরা জানান, আল আমিন বিকাশের ব্যবসা করার কারণে বাড়িতে টাকা রেখে দিতেন। মাঝে মাঝে টাকার প্রয়োজন হলে বাড়ি থেকে নিয়ে যেতেন। গত ১০ অক্টোবর বিকেলে আলামিন এক লাখ টাকা লাগবে বলে তার স্ত্রী লাকিকে ফোনে জানায়। শাকিল ও রাইজ উদ্দিনকে পাঠিয়ে তাদের কাছে এক লাখ টাকা দিতে বলে।

এরপর তারা দুজনে বাড়িতে এলে তাদের সামনেই ড্রয়ার থেকে এক লাখ টাকা বের করে দেন। এই হত্যার পর থেকে শাকিলের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। এ হত্যাকান্ডের সাথে শাকিলের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

নিহতের বাবা হাসমত আলী জানান, বাসায় তার মেয়ে একা আছে এবং বাড়িতে এতগুলো টাকা রয়েছে এটা নিজেদের লোক ছাড়া আরতো কেউ জানার কথা না। এই হত্যাকান্ডের সাথে এই পরিবারের নিজেদের লোকজনই জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সাথে তিনি এই হত্যাকান্ডের মূল রহস্য সঠিক তদন্তের মাধ্যমে উৎঘাটনসহ জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

টাঙ্গাইল থানার ওসি মীর মোশাররফ হোসেন জানান, শনিবার দিবাগত রাতে কে বা কারা আলামিনের বাড়িতে ঢুকে স্ত্রী-কন্যাকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মা ও শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর বাবা হাসমত আলী বাদি হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে হাসমত আলীর কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের র‌্যাব কমান্ডার শফিকুর রহমান জানান, মা-মেয়ে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে র‌্যাবও তৎপর রয়েছে।

টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় রোববার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি জানান, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই হত্যাকারিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। পুলিশের সবগুলো ইউনিট এ ব্যাপারে তৎপর রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই হত্যার রহস্য উৎঘাটন করা যাবে বলে তিনি জানান।

Loading...