টাঙ্গাইলে বন্ধুর স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে জবাই করে হত্যা করে রাইজ উদ্দিন!

৩:৫৩ অপরাহ্ণ | সোমবার, অক্টোবর ১৪, ২০১৯ ঢাকা, দেশের খবর

মোল্লা তোফাজ্জল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি- টাঙ্গাইলে বিকাশ ও ফ্যাক্সিলোড ব্যবসায়ী আলআমিনের স্ত্রী লাকী বেগম (২২) ও মেয়ে হুমায়রা আক্তার আলিফা (৪) কে ছুরি দিয়ে এ্যালাপাথারি কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে ঘাতক রাইজ উদ্দিন (৩৬)।

গ্রেফতারকৃত রাইজ উদ্দিন (৩৬) সদর উপজেলার চর পাতুলি এলাকার মৃত সুকুম উদ্দিনের ছেলে। সোমবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিং এ তথ্য জানান টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়।

পুলিশ সুপার বলেন, রাইজউদ্দিন আল আমিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলো। সে সুবাধে রাইজ উদ্দিন আলামিনের বাড়িতে যাতায়াত করতো। রাইজউদ্দিনকে দিয়ে আলআমিন মাঝে মাঝে তার বাড়ি থেকে টাকা আনতে পাঠাতো। সেই সুযোগে টাকার লোভ সামলাতে না পেরে গত রোববার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে আলআমিনের বাসায় টাকা চুরি করতে যায় রাইজউদ্দিন। ৮ লাখ টাকা চুরি করার সময় তার স্ত্রী বাধা প্রয়োগ করলে ছুরি দিয়ে এ্যালোপাথারি কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে। বিষয়টি মেয়ে আলিফা দেখে ফেলায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করে রাইজ উদ্দিন।

রোববার বিকেলে নিহত লাকি বেগমের বাবা হাসমত আলী বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

রোববার (১৩ অক্টোবর) রাতে টাঙ্গাইল শহরের ভাল্লুককান্দি এলাকা থেকে রাইজউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত জানা যায় রাইজ উদ্দিনের দেয়া তথ্য অনুযায়ি তার বসতবাড়ির মুরগীর খোয়ার হতে ৭ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ও ঘরের ভিতর থেকে ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আসামীর দেখানো জায়গা ধান খেতের আইল থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়। যে লুঙ্গি ও শার্ট পড়ে হত্যা করা হয়েছে আলামত হিসেবে সেই লুঙ্গি ও শার্টও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, পুরো হত্যাকান্ডটি রাইজউদ্দিন একাই ঘটিয়েছে। সোমবার দুপুরে ১৬৪ ধারায় জবানবন্ধি দেওয়ার জন্য আসামীকে আদালতে প্রেরণ করা হবে। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি না দিলে রিমান্ড আবেদন করা হবে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার ( ১২ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে টাঙ্গাইল পৌর শহরের ভাল্লুককান্দী এলাকায় অন্তসত্ত্বা মা লাকি বেগম ও তার ৪ বছরের মেয়ে আলিফাকে হত্যা করা হয়। পরে নিহতের স্বামী বাড়িতে ফিরলে লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে রাতেই পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। রোববার ময়না তদন্ত শেষে লাশ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

Loading...