‘আবরার পানি খাইতে চাইলে পানি দেওয়া হয় নাই’

৬:১৫ অপরাহ্ণ | বুধবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বী (২২) হত্যা মামলায় এএসএম নাজমুস সাদাতের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূইয়া এ রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন।

এদিকে রিমান্ড আবেদনের শুনানিকালে বিচারকের জিজ্ঞাসায় এ আসামি জানিয়েছেন, বড় ভাইদের কথায় তিনি আবরার ফাহাদ রাব্বীকে রুমে থেকে ডেকে নিয়ে আসেন। পরে বড় ভাইরা তাকে মারধর করে তবে তিনি নিজে মারেননি।

তিনি বলেন, ‘আবরারকে অনিক সরকার, সকাল, মোজাহিদ ও মনির ভাইসহ ১৫ ও ১৬ ব্যাচের ভাইরা বেশি মারছে। আবরার পানি খাইতে চাইলে পানি দেওয়া হয় নাই। আমরা ভাইদের বলেছিলাম হাসপাতালে নিয়ে যাইতে, ভাইরা নিতে দেয় নাই।’

এর আগে আজ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর ডিবির লালবাগ জোনাল টিমের পুলিশ ইন্সপেক্টর মো. ওয়াহিদুজ্জামান এ আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, সাদাত মামলার এজাহারনামীয় ১৫ নম্বর আসামি। মামলার তদন্ত, সাক্ষ্য প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণে এ আসামি সূত্র বর্ণিত মামলার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার সম্পর্কে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ইতিপূর্বে এ মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিকারীদের মধ্যে কয়েকজন এ আসামি জড়িত মর্মে নাম প্রকাশ করেছেন। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জন্য এ আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

রিমান্ড শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষে পুলিশের জিআরও এসআই মাজহারুল ইসলাম ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন।

এরপর আসামি নাজমুস সাদাতের পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় বিচারক তাকে জিজ্ঞাসা করেন কিছু বলার আছে কি না? জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি বড় ভাইদের কথায় আবরারকে রুম থেকে ডেকে এনে দেই। আমি আবরারকে মারিনি।’

এরপর বড়ভাই কারা বিচারকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অনিক, সকাল, মুজাহিদ, রবিন ও মনির। এরপর বলেন, ‘ওরাই আবরারকে মারে। আমি সাড়ে ১২টায় চলে আসি। এরপর কি হয়েছে জানি না।’

রিমান্ডে যাওয়া সাদাত বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি জয়পুরহাট জেলার সদর থানার কড়ই উত্তর পাড়ার মো.হাফিজুর রহমানের ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

Loading...