সাগরে মৎস আহরণে নিষেধাজ্ঞা, ফিশারিঘাট হারিয়েছে চিরাচরিত রুপ

৬:৩২ অপরাহ্ণ | বুধবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৯ দেশের খবর

তাহজীবুল আনাম, কক্সবাজার প্রতিনিধি- কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়ার বিএফডিসি অর্থাৎ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন। যেটি স্থানীয় মানুষের কাছে ফিশারিঘাট হিসেবেই অধিক পরিচিত। এক সময় সারাবছর মুখরিত থাকতো মানুষের কোলাহলে।কক্সবাজার শহরের সামুদ্রিক মাছের ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবেও অভিহিত এটি।

পদভারে মুখরিত সেই ফিশারিঘাট এখন মানব শূন্য । মানুষের আনাগোনা প্রায় নেই বললেই চলে। গত ৯ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণের উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা। আগামি ৩০ অক্টোবর যার মেয়াদকাল শেষ হবে। এই কারণেই ফিশারিঘাট হারিয়েছে চিরাচরিত রূপ।

সরজমিনে ফিশারিঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী, শ্রমিক এমনকি পরিবহণ খাতেও প্রভাব ফেলেছে নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞার আগেও ঘাট সংলগ্ন বাঁকখালী নদীতে সারিতে সারিতে নোঙর করা ফিশিং ট্রলার দেখা যেতো। ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ নিয়ে পল্টনে শোরগোল ফেলতো মাঝি-মাল্লারা। সেখানে পুরো ঘাটের চিত্রই সম্পূর্ণ ভিন্ন। হাতে গোনা দু’একটি ফিশিং ট্রলার রয়েছে মাত্র। তাও আবার প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতেই সেগুলোকে ঘাটে নোঙর করানো হয়।

এক পাশে কয়েকজন জেলে ইলিশ জাল বুনছে। আর ঘাটের বাইরে বরফ কাটার মেশিনে রঙ লাগানোর কাজ করছে দুই জন শ্রমিক। ইলিশ জাল বুননকারি জেলে শাহজাহানের সঙ্গে আলাপ করতেই জানালেন, তিনি সাগরে মাছ ধরতে যান না। শুধু মাছ ধরার জাল বুনা তার পেশা। এ জন্য বহদ্দার (ট্রলার মালিক) প্রতিদিন তাঁকে ৮’শ টাকা করে দেন।

নিষেধাজ্ঞা জেলে জীবনে কেমন প্রভাব ফেলছে জানতে চাইলে শাহজাহান বলেন, নিষেধাজ্ঞার আগে প্রতিদিন এই ঘাটে অন্তত ১’শ ফিশিং ট্রলার নোঙর করতো। কিন্তু এখন ১টিও করে না। জেলেরাও যার যার ঘরে চলে গেছে। গত ৪-৫ বছর ধরে নিষেধাজ্ঞা দেখছি। এই নিষেধাজ্ঞায় জেলেরা অসন্তুষ্ট নয়, বরং খুশি। কারণ নিষেধাজ্ঞার পর সাগরে গেলেই ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ পাওয়া যায়।

নুরুল হুদা নামে জাল বুননকারি আরেক যুবক জানালেন, ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি সাগরে মাছ ধরতে যেতেন। ২০১৬ সালে এক দুর্ঘটনায় তাঁর সঙ্গে যাওয়া ১৫ জেলে সাগরেই মারা যান। ৫ দিন সাগরে ভেসে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি। এরপর থেকে প্রাণের ভয়ে আর সাগরে মাছ ধরতে যান না। মাছের সাথে সখ্যতাও ছাড়তে পারছেন না। তাই জাল বুনন করাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

সাজু মিয়া নামে ফিশারি ঘাটের এক পান দোকানদার জানালেন, বেশিরভাগ জেলে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এখন ঘাটে আসে না। নিষেধাজ্ঞার আগে তাঁর দোকানে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হতো। বর্তমানে সেখানে ১ হাজার টাকার মতো পণ্য বিক্রি হয়।

Loading...