ফাঁড়িতে আসামির মৃত্যু: পুলিশ-এলাকাবাসীর সংঘর্ষে আহত ৩৩, পাঁচ পুলিশ প্রত্যাহার

৭:০১ অপরাহ্ণ | বুধবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৯ দেশের খবর, রংপুর

আব্দুল করিম সরকার, পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি- রংপুরের পীরগঞ্জে ভেন্ডাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের হাজতখানায় এক আসামীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতা তদন্ত কেন্দ্রটি ঘেরাও করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ ৩৩ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লে ২৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়।

অপরদিকে জনতার ইট-পাটকেলের আঘাতে ৮ পুলিশ আহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় তদন্ত কেন্দ্রটির ইনচার্জ (আইসি) আমিনুল ইসলামসহ ৫ পুলিশকে ক্লোজড করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রংপুরের পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সার্কেল অফিসারসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী, এলাকাবাসী এবং ভুক্তভোগীদের সুত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জের ভেন্ডাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রটি পীরগঞ্জে ৫টি ইউনিয়নের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রনে কাজ করছে। তদন্ত কেন্দ্রটি ইনচার্জ (আইসি) আমিনুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই তিনি আটক বানিজ্য করে শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে উপেজলার বড়দরগা থেকে পার্শ্ববর্তী মিঠাপুকুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে শামছুল ইসলাম (৫৫) কে চোলাই মদ সেবনের অভিযোগে তদন্ত কেন্দ্রটির পুলিশ আটক করে।

ঘটনার রাতে শামছুলের পরিবারের সাথে তদন্ত কেন্দ্রের আইসি যোগাযোগ করে মোটা অংকের টাকা দাবী করে বলে জানা গেছে। এরপর গতকাল বুধবার সকাল ৮ টার দিকে হাজতে পরিবারের লোকজন আটক শামছুলকে দেখতে যায়। এ সময় আইসি তাদের নিকট মোটা অংকের টাকা দাবী করেন বলে জানান নিহত সামসুলের পরিবার।

আইসি আমিনুল ইসলাম জানান, শামছুল তার গায়ে থাকা ফতুয়া দিয়ে হাজতের জানালার গ্রীলের সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ভেন্ডাবাড়ী এবং মিঠাপুকুরের লোকজন এসে তদন্ত কেন্দ্র ঘেরাও করে। এ সময় উপস্থিত জনতাকে আশ্বস্ত করতে রংপুরের সার্কেল ডি অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান মাইকে কথা বলেন। কিন্তু আইসি’র অত্যাচারে অতিষ্ঠ মানুষ বিক্ষুদ্ধ হয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।

এ সময় পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ৩৩ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লে কলোনীবাজারের কাদের মিয়া (৪৫), চকবরখোদার তরিকুল ইসলাম (৩৫), পাকুরিয়ার রনি মিয়া (২৭), বেহবতপুরের ম্ইাদুল, ভেন্ডাবাড়ীর বড়াল মহন্ত, মিল্কী গ্রামের রাশেদুলসহ ২৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়।

অপরদিকে জনতার পাটকেলের আঘাতে পুলিশের সার্কেল ডি এএসপি হাফিজুর রহমান, থানার ওসি সরেস চন্দ্রসহ ৮ পুলিশ সদস্য আহত হন। ওই ঘটনায় আইসি আমিনুল ইসলাম, এ এসআই হরিদাসসহ ৫ পুলিশকে ক্লোজড করা হয়েছে।

রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার উপস্থিত সাংবাদিক ও জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, ঘটে যাওয়া ঘটনা ও উদ্ভুত পরিস্থিতির সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, হাজতে যিনি (শামছুল হক) মারা গেছেন, তার ব্যাপারে তদন্ত করা হবে। তিনি মাদকসেবী কি না? কেন আত্মহত্যা করলো। সেটাও দেখা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ঘটনার সাথে পুলিশ জড়িত হলেও ছাড় দেয়া হবে না।

এ সময় উপস্থিত জনতা তদন্ত কেন্দ্রটির আইসি আমিনুলের কথিত সোর্স রংপুরের পাগলাপীরের জিয়াউর রহমান জিয়ার ব্যাপারে শত শত অভিযোগ তুলে ধরলে পুলিশ সুপার অনতিবিলম্বে তাকে গ্রেফতারের জন্য নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মারুফ হোসাইন কে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার খবর পাওয়া যায়নি।

Loading...