• আজ ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে ইউপি সদস্যের স্ত্রী ও মেয়ের নামে দুঃস্থদের ভিজিডি কার্ড

৬:২৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৯ দেশের খবর, রংপুর

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সরকারী নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে নিয়ম বহিঃভুতভাবে স্ত্রী ও মেয়ের নামে (ভিজিডি) দুঃস্থ মাতার কার্ড করে চাল উত্তোলন করে আসছেন নুর মোহাম্মদ নামে এক ইউপি সদস্য। সম্প্রতি বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। ফলে এলাকাজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আর এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডে।

জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনী কর্মসুচির আওতায় সমাজের বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, স্বামী নিগৃহীতা ও দুঃস্থদের জন্য ২ বছর মেয়াদী একটি করে কার্ড প্রদান করা হয়। এ কার্ডের বিপরীতে প্রতি মাসে দুঃস্থদের ৩০ কেজি করে চাল দেয় সরকার।

এদিকে তালিকা প্রণয়নের শুরুতেই পলাশী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ কৌশলে তার স্ত্রী রোকসানা বেগম (৪৬) ক্রমিক নং-২২৫ ও মেয়ে শাহের বানু (২৩), ক্রমিক নং-২২৬, এর নামে দুটি ভিজিডি কার্ড করে নেন। যা একেবারেই নিয়ম বহিঃভুত। এসব কার্ড শুধুমাত্র দুঃস্থদের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু ইউপি সদস্য নুর মেহাম্মদ এসব নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে স্ত্রী ও মেয়েকে দুঃস্থ দেখিয়ে এ কাজটি করেন। সম্প্রতি বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়।

জানাগেছে, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে এসব বরাদ্দকৃত নামের তালিকা দেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা। আর এসব যাচাই বাচাই করেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা। কিন্তু মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অজ্ঞাত কারণে অনিয়মকে প্রশ্রয় দিয়েই চলেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইউপি সদস্য বলেন, এসব নামের তালিকা তৈরীর পূর্বেই চেয়ারম্যান নিয়মনীতি বলে থাকেন। কিন্তু ইউপি সদস্যরা এসব নিয়মনীতি মানেন না। তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেই চলেছেন। তারই অংশ হিসেবে ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ এসব অনিয়ম করেছেন। তিনি কোন কিছুই তোয়াক্কা করেন না।

এলাকাবাসী এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলেই তাকে নানাভাবে হয়রানী করেন বলে অভিযোগ করেন নুর মোহাম্মদ।

এসব অভিযোগের বিষয়ে পলাশী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য নুর মোহাম্মদের সাথে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কথা বলার সাথে সাথে মোবাইল ফোন কেটে দেন তিনি। এরপর একাধিকবার ফোন দিলেও ফোন রিসিভ করেননি তিনি।

পলাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, তালিকা তৈরির পূর্বেই তাদেরকে নিয়মনীতি বলা হয়। কিন্তু নিয়মনীতি তিনি মানেনি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন তিনি।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রশিদা বেগম বলেন, এধরনের অনিয়ম হলে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন তিনি। তিনি আরও জানান, উপজেলা কমিটিতে এটি বাতিল করার সু্যোগও রয়েছে।

Loading...