• আজ ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জালিয়াতির অভিযোগে মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে মামলা

৯:৫৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৯ ঢাকা
musa

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে ‘কার্নেট ডি প্যাসেজ’ সুবিধায় আনা গাড়ি জালিয়াতির মাধ্যমে নিবন্ধন করে ব্যবহারের অভিযোগে মামলা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এর পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার মামলাটি করেন।

মামলায় মুসা বিন শমসেরের সাথে আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন- বিআরটিএ ভোলা জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক মো. আইয়ুব আনছারী (বর্তমানে ঝালকাঠিতে কর্মরত), গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান অটো ডিফাইন ও ফিয়াজ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. ওয়াহিদুর রহমান, মুসা বিন শমসেরের শ্যালক মো. ফারুক-উজ-জামান এবং ‘কার্নেট ডি প্যাসেজ’ সুবিধায় গাড়ি আনা ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী ফরিদ নাবির।

২০১০ সালের ১২ মার্চ বিলাসবহুল রেঞ্জ রোভার মডেলের গাড়িটি কার্নেট ডি প্যাসেজ সুবিধায় বাংলাদেশে আনেন ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী ফরিদ নাবির।

দুদক সূত্র জানায়, কারনেট ডি প্যাসেজ এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে একজন পর্যটক বা ভ্রমণকারী নিজ গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে যাতায়াত করতে পারেন। সাময়িক আমদানি সুবিধার আওতায় গাড়িটি কোনো ধরনের শুল্ক-কর পরিশোধ ছাড়াই চলাচল করতে পারে। কিন্তু এ সুবিধায় আনা গাড়ি বিক্রি করা যায় না। এটি ব্যবহার শেষে ফেরত নিয়ে যেতে হয়।

রেঞ্জ রোভার গাড়িটি আলোচনায় আসে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি অভিযানের পর। ২০১৭ সালের ২১ মার্চ এক অভিযানে গাড়িটি জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দারা। গাড়ি জব্দ নিয়েও হয় দিনভর নাটক।

গাড়িটি উদ্ধারের পর শুল্ক গোয়েন্দারা জানিয়েছিলেন, ভোলা বিআরটিএ’র কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে ভুয়া কাগজ দিয়ে ওই গাড়ি নিবন্ধন এবং বেনামে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

গাড়িটি জব্দের পর মুসাকে কাকরাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কার্যালয়ে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। শুল্ক গোয়েন্দারা বলেছিলেন, মুসা বিন শমসের ১৭ লাখ টাকা শুল্ক পরিশোধ দেখিয়ে ভুয়া বিল অব এন্ট্রি প্রদর্শন করে গাড়িটি বেনামে রেজিস্ট্রেশন করেন। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই গাড়িতে ২ কোটি ১৭ লাখ টাকার শুল্ক প্রযোজ্য।

ওই তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে মুসার বিরুদ্ধে মামলা করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে সুপারিশ করেছিল শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

দুই বছর পর সেই মামলা হল। এজাহারে বলা হয়েছে, মামলার আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ফৌজদারি অপরাধ করেছেন।

Loading...