তুহিন হত্যায় বাবার জড়িত থাকার কথা বিশ্বাস করতে পারছেন না মা

১০:০৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ
tuhin

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় পাঁচ বছরের শিশু তুহিন হত্যায় তার বাবা আব্দুল বাছিরের জড়িত থাকার বিষয়টি কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছেন না মা মনিরা বেগম। বাবার কোলেই প্রতিদিন ঘুমাতো তুহিন, সেই বাবাই হত্যা করেছে এ কথা সে মানতে নারাজ। তবে অপরাধী যেই হোক না কেন তাদের শাস্তি দাবি করেছেন মনিরা।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে দিরাই উপজেলার কেজাউরা গ্রামে তুহিনের মা মনিরা বেগমের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের কথা হয়। এ সময় সদ্যজাত কন্যা সন্তানকে কোলে নিয়ে কথা বলার শুরুতেই কেঁদে ফেলেন মনিরা।

মনিরা বেগম বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে পারছি না আমার স্বামী এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তুহিন সব সময় তার বাবার পাশেই ঘুমাত। তাকে কোনোদিন ছেলেকে আঘাত করতে দেখিনি।’

তিনি বলেন, ‘গত রোববার রাতে খাওয়া শেষে বাবার পাশেই ঘুমায় আমার নিষ্পাপ তুহিন। শেষ রাতে তুহিনের চাচাতো বোন তানিয়া ঘরের দরজা খোলা দেখতে পায়। এর মধ্যে তুহিনও ঘরে নেই। খোঁজাখুঁজি করে তুহিনকে বাড়ির পাশের রাস্তায় গাছের সাথে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। আমি চাই তুহিন হত্যার সাথে জড়িত প্রকৃত খুনিদের খুঁজে বের করে ফাঁসি কার্যকর করা হোক।’

উল্লেখ্য, গত রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের কাজাউড়া গ্রামে রাতের আঁধারে ঘর থেকে তুলে নিয়ে শিশু তুহিনকে (৫) নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘাতকরা তার লাশটি রাস্তার পাশের একটি গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখে লিঙ্গ কেটে নিয়ে যায়, দুটি কান কেটে একটি রাস্তায় ফেলে রাখে।

পরে তুহিনের মা মনিরা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করে দিরাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তুহিনের বাবা আব্দুল বাছির, চাচা আব্দুল মোছাব্বির, নাসির উদ্দিন, জমসেদ আলী ও চাচাতো ভাই শাহারিয়ারকে গ্রেপ্তর দেখানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে তুহিনের বাবা আব্দুল বাছির, চাচা আব্দুর মুছাব্বির এবং জমশেদ আলীকে তিনদিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। একই সময় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তুহিনের আরেক চাচা নাছির উদ্দিন ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ার।

জবানবন্দিতে তারা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন শিশু তুহিনকে ঘুমন্ত অবস্থায় তার বাবা আব্দুল বাছির ঘর থেকে বের করে বাইরে নিয়ে যান। এরপর ঘুমন্ত তুহিনকে গলা কেটে হত্যা করেন চাচা ও চাচাতো ভাই। পরে তুহিনের পেটে দুটি ছুরি বিদ্ধ করে গাছে ঝুলিয়ে দেন তারা। তুহিনকে হত্যায় বাবার সঙ্গে অংশ নেন চাচা নাছির উদ্দিন ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ার।

Loading...