২৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বেনাপোলে নির্মিত হচ্ছে কার্গো টার্মিনাল

৪:৩২ অপরাহ্ণ | শনিবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৯ ফিচার

মহসিন মিলন, বেনাপোল প্রতিনিধি- দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে ২শ‘ ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল। রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা আনতে এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারনে কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ জন্য বেনাপোল স্থলবন্দরে কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল নির্মাণ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। এতে খরচ ধরা হয়েছে ২শ‘ ৮৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটির প্রস্তাব পাওয়ার পর চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডিপিপিটি এখন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন হয়েছে। চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।

দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বেনাপোল স্থলবন্দর। যার শুরু ৪টি টিনশেড দিয়ে। হাঁটি হাঁটি পা পা করে আজ এ বন্দরটি হয়ে উঠেছে দেশের একমাত্র সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে এ বন্দরটি।

ভারত’র সাথে স্থলপথে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বেনাপোল স্থলবন্দর সবচেয়ে গুরুত্বপূণ। দেশের সিংহভাগ শিল্প করকারখানা ও গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ এর শতকরা ৮০ শতাংশ কাচা মাল আমদানি হয় এ বন্দর দিয়ে। প্রতি বছর এই বন্দর দিয়ে ভারতের সাথে ৩০ হাজার কোটি টাকার বানিজ্য হয়ে থাকে। প্রতি বছর প্রত্যক্ষভাবে সরকারের একান থেকে ৫ হাজার ৫’ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে থাকে। ২০০২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।

আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ বন্দর উন্নয়নসহ দু‘দেশের মধ্যে সু-সম্পর্ক ধরে রাখতে বিশ্ব ব্যাংক, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত, ভারতীয় হাই কমিশনার, ভুটানের অর্থসচিব, তৎকালীন নৌপরিবহণ মন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্য মন্ত্রী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সচিবরা বেনাপোল কাস্টমস ও বন্দর পরিদর্শন করেছেন একাধিকবার।

প্রতিদিন প্রায় চারশ‘ থেকে পাঁচশ‘ ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক আমদানি হয় বেনাপোল বন্দর দিয়ে এবং ভারতে রফতানি হয় ১৫০ ট্রাক মালামাল। বন্দর থেকে ৫’ ট্রাক মালামাল খালাশ হয়ে থাকে। টার্মিনালটি নির্মাণ করা হলে প্রায় এক হাজার ২শ‘৫০টি যানবাহন পার্কিং করা সম্ভব হবে। প্রকল্পের আওতায় ২৯ দশমিক ১০ একর জমি অধিগ্রহণ, ২ লাখ ৪৫৬ হাজার ৯৭ ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন, ২ হাজার ১শ‘ মিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, ৬ হাজার বর্গমিটার অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, এক লাখ ৪৭ হাজার বর্গমিটার পার্কিং ইয়ার্ড, এক হাজার ৭শ‘৪৭ বর্গমিটার ভবন নির্মাণ, দুইটি মেইন গেট, দুইটি গেস্ট হাউস ও সিকিউরিটি সিস্টেম, চারটি ওয়াচ টাওয়ার এবং এক হাজার ৬শ‘৫০ বর্গমিটার ড্রেন নির্মাণ করা হবে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, সম্ভাবনাময় দেশের সর্ব বৃহৎ স্থল বন্দর বেনাপোল। দেশের অর্থনীতিতে বেনাপোল বন্দরের ভূমিকা খুবই গুরুত্ব পূর্ন। এ পথে বাণিজ্য আরো গতিশীল করতে ভারত-বাংলাদেশ সরকার উভয়ে আন্তরিক। ইতিমধ্যে তার ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটান চার দেশের বাণিজ্য চুক্তিও বাস্তবায়ন হয়েছে। কিন্তু বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানির ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত সমস্যায় ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় সুফল পাচ্ছে না। সরকার যদি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করে তবে বর্তমানে যে রাজস্ব আদায় হয় তার চেয়ে দ্বিগুন রাজস্ব আয় সম্ভব।

বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদার জানান, প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন হয়েছে, এখন এটি দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। ফলে দু দেশের মধ্যে বাড়বে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গতিশীলতা।

Loading...