আজ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের জন্মদিন

১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, অক্টোবর ২৬, ২০১৯ গুণীজন সংবাদ
ak

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ আজ ২৬ অক্টোবর ১৮৭৩ সালের এই দিনে আবুল কাশেম ফজলুল হক বাকেরগঞ্জ জেলায় (বর্তমান ঝালকাঠি) রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়ায় তার নানার বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি একে ফজলুল হক নামে অধিক পরিচিত। রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের কাছে শেরেবাংলা (বাংলার বাঘ) এবং হক সাহেব নামে পরিচিত ছিলেন।

তার পৈতৃক নিবাস বরিশাল শহর থেকে ১৪ মাইল দূরে বানারীপাড়ার চাখার গ্রামে। তার পিতার নাম মৌলভী মোহাম্মদ ওয়াজেদ এবং মায়ের নাম সৈয়দন্নেসা খাতুন। মক্তবের পাট চুকিয়ে ১৮৮১ সালে তিনি বরিশাল জিলা স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন।

১৮৮৬ সালে অষ্টম শ্রেণীতে তিনি বৃত্তি লাভ করেন এবং ১৮৮৯ সালে ফজলুল হক প্রবেশিকা পরীক্ষায় তৎকালীন ঢাকা বিভাগে মুসলমানদের মধ্যে প্রথম স্থান দখল করেন। তিনি (১৯০৩-১৯০৪) রাজচন্দ্র কলেজে খন্ডকালীন অধ্যাপনা করেন। ১৯০৬ সালে প্রশাসনে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগ দেন।

ফজলুল হক নবাব সলিমুল্লাহ ও নবাব নওয়াব আলী চৌধুরীর হাত ধরে রাজনীতিতে পদার্পণ করেন ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময়। ১৯১৩ সালে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুসলিম লীগের সেক্রেটারি এবং ১৯১৬ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

এ. কে. ফজলুক হক এম.এ. পাশ করার পর দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ করেন। তার পুত্র ফাইজুল হক ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পাট প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। রাজনীতিবিদ একে ফজলুল হক ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সেক্রেটারি।

তিনি ১৯২৯ সালে স্যার আবদুর রহিমকে সাথে নিয়ে ‘প্রজা পার্টি’ নামক দল গঠন করে জমিদারি প্রথা ও রেয়াতব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন। ১৯৩৫ সালে ফজলুল হক কলকাতার প্রথম মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হওয়ার পর তিনি স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন।

১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত শেরে বাংলা রাজনৈতিকভাবে বেশ নিষ্ক্রিয় ছিলেন। ঢাকায় স্থায়ী হয়ে আইন ব্যবসা দেখাশোনা শুরু করেন তিনি। এই সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তানের এডভোকেট জেনারেলের দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের পরে শেরে বাংলা একে ফজলুল হক নতুন করে রাজনীতি নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য আওয়ামী লিগের সাথে যুক্ত হয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সময় তিনি ছিলেন সামনের সারিতেই। নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভায় আবারো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পূর্ব বাংলার দায়িত্ব নেন শেরে বাংলা, তৃতীয়বারের মতো বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেছিলেন তিনি। শারীরিক অক্ষমতার কারণে ১৯৫৮ সালে তিঁনি রাজনীতি থেকে অবসর নেন।

তিনি মুসলমানদের শিক্ষা বিস্তারে অসামান্য অবদান হিসেবে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তার মধ্যে আছে ইডেন কলেজ, কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ, আদিনা ফজলুল হক কলেজ, তেজগাঁও এগ্রিকালচার কলেজ (বর্তমানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) প্রভৃতি। বাংলা একাডেমী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা অপরিসীম।

এই মহান নেতা ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ৮৯ বছর বয়সে ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। হাইকোর্টের পশ্চিম পাশে তার মাজার অবস্থিত। একই স্থানে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও খাজা নাজিমুদ্দিনেরও কবর রয়েছে। তাদের তিনজনের সমাধিস্থলই ঐতিহাসিক তিন নেতার মাজার নামে পরিচিত।

Loading...