• আজ ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

তরুণীকে টানা ধর্ষণ, উপজেলা চেয়ারম্যানকে আ.লীগ থেকে বহিষ্কার

৬:০৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, অক্টোবর ২৭, ২০১৯ দেশের খবর, বরিশাল

সময়ের কণ্ঠস্বর, বরিশাল- বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি গোলাম ফারুককে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে, জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোলাম ফারুক অনৈতিক কাজে লিপ্ত থেকে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে তাকে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতির পদ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর ভাটারা থানায় বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন এক তরুণী।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গোলাম ফারুকের গ্রামের বাড়ি বানারীপাড়া উপজেলার ডান্ডোয়া এলাকায়। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তার নিজস্ব ফ্ল্যাট রয়েছে। তবে সেখানে কেউ থাকে না। গোলাম ফারুক মাঝে-মধ্যে বানারীপাড়া থেকে এসে ওই ফ্ল্যাটে ওঠেন। আর ওই ফ্ল্যাটেই মেয়েটিকে টানা এক মাস ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই তরুণী রাজধানীর পল্লবী এলাকায় থাকেন। তার বাড়িও বানারীপাড়ায়। পড়ালেখার পাশাপাশি পল্লবীর একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন তিনি। গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে মেয়েটির মুঠোফোনে অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল আসে। রং নম্বর হওয়ায় মেয়েটি তা রিসিভ করেননি। এরপরও একই নম্বর থেকে কল করা হতো তাকে। একপর্যায় ফোন রিসিভ করলে তাদের পরিচয় এবং কথা হয়। সেই থেকে তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভনে মেয়েটিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ফ্ল্যাটে নিয়ে ধর্ষণ করে আসছিলেন গোলাম ফারুক।

সম্প্রতি তরুণী বিয়ের জন্য চাপ দিলে নানা কৌশল করতে থাকেন গোলাম ফারুক। বিয়ে করবেন-এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে ঘোরাতে থাকেন। প্রত্যাখাত হয়ে শেষ পর্যন্ত ফারুকের বিরুদ্ধে মেয়েটি ভাটারা থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, ‘গোলাম ফারুক অনৈতিক কাজে লিপ্ত থেকে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় তাকে দলের সব পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আজ জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দলীয় নেতাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফারুককে সাময়িক বহিষ্কার করে তার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

এ ব্যাপারে কথা বলতে গোলাম ফারুকের মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Loading...