বৈষেম্যের ভয়াল থাবা থেকে ‘মুক্তি’র লক্ষ্যে আজ পালিত হচ্ছে “বিশ্ব মিতব্যয়ীতা দিবস”

৩:২৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৩১, ২০১৯ স্পট লাইট
বিশ্ব মিতব্যায়িতা দিবস

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক-  প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ১৩০ কোটি টন খাদ্য নষ্ট হয়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ লাখ কোটি টাকা। অথচ বিশ্বে প্রতিদিন ১৭ কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত অবস্থায় দিন কাটায়। সমাজের উঁচু শ্রেণির মানুষ অপচয় করে কোটি কোটি টাকার খাবার, আর এর মাশুল দিতে হয় পথের পাশের মানুষগুলোকে।

বৈষেম্যের এ ভয়াল থাবা থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রয়োজন মিতব্যয়িতার শিক্ষা।

বাংলায় একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে , অর্থ আয় করা কঠিন কিন্তু ব্যয় করা সহজ। সমৃদ্ধি ও সম্পদের জন্য সঞ্চয়ের মনোভাব মানবজীবনে একটি অপরিহার্য বিশিষ্টগুণ। ব্যক্তি জীবনে যত বেশি সঞ্চয় হবে ততই বাড়বে ব্যক্তি, পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তা। মিতব্যয় মানুষের সম্পদকে বৃদ্ধি করে এবং অন্যকে সাহায্য করার পথ উন্মুক্ত রাখে। তাই পরিবার ও জাতির কল্যাণে মিতব্যয়ী হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর সারা বিশ্বে একই সাথে পালিত হয় “বিশ্ব মিতব্যয়ীতা দিবস”।

মানুষকে মিতব্যয়িতায় উৎসাহিত করতে প্রতিবছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় দিবসটি। দিবসটি উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী-সামজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মিতব্যয়িতা মানে হলো ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংযম বা আয় বুঝে ব্যয়।

ব্যয়ের ক্ষত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন’ ও মিতব্যয়িতার অর্থ। ইসলাম অপব্যয় এবং কৃপণতার ব্যাপারে সতর্ক করে মিতব্যয়িতার নির্দেশ দিয়েছে বারবার। শুধু একদিন নয়, সারা জীবনই মিতব্যয়িতার পথ অবলম্বন করা ইসলামের বিধান।

১৯২৪ সালে ‘মিলানে’ অনুষ্ঠিত বিশ্বের বিভিন্ন সঞ্চয় ব্যাংকের প্রতিনিধিদের প্রথম বিশ্ব কংগ্রেসে গৃহীত এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দিবসটি পালন শুরু হয়। সেই থেকে সঞ্চয় ব্যাংক সমূহ আন্তর্জাতিক ভাবে দিবসটি পালন করে। মূলত মিতব্যয় ও সঞ্চয়ের গুরুত্ব সর্ম্পকে জনগণের মনোযোগ আর্কষণ করার উদ্দেশ্যে নিয়ে এই দিবসটি পালন করা হয়। বাংলাদেশেও সরকারিভাবে প্রতি বছর দিবসটি পালিত হয় এবং জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তর এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে।

ইসলামি অর্থনীতিতে অপচয় ও অপব্যয় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপচয় বা অপব্যয় শুধু যে আর্থিক ক্ষতিই ডেকে আনে তা কিন্তু নয়। অপচয়ের কারণে আর্থিক ক্ষতির চেয়েও আরও অনেক বড় ক্ষতি হতে পারে মানুষের। অপচয় ও অপব্যয়ের নানাবিধ ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে ইসলামে তা নিষিদ্ধ।

সম্পদ ব্যয়ে মিতব্যয়ী হওয়ার উপকারিতা ও মোমিনের গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যখন তারা ব্যয় করে তখন অপব্যয় করে না, কৃপণতাও করে না এবং তারা আছে এ দুইয়ের মধ্যমপন্থায়।’এ কারণেই মিতব্যয় মানুষের সর্বোত্তম গুণ। আর মিতব্যয়িতার মাধ্যমেই সফলতা অর্জন করা সম্ভব। আল্লাহ তাআলাও অপব্যয়কে বর্জন করে মিতব্যয়ী হওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন।

এ সম্পর্কে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা অপচয়কারীকে অভাবগ্রস্ত করেন। আসলে অপচয়কারী আল্লাহর দেওয়া অনুগ্রহের ব্যাপারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে যেনতেন তা অপচয় করে এবং নিজেই নিজের করুণ পরিণতি ডেকে আনে।

মানুষ আয়েশি জীবন যাপনের জন্য কিছু অপ্রয়োজনীয় ব্যয় করে, যা ভবিষ্যতের জন্য মঙ্গলকর নয়। আমরা আমাদের চারপাশে যদি তাকাই তাহলে আমাদের নজরে আসে এমন কিছু অপ্রত্যাশিত দৃশ্য, যা সত্যিই বেদনাদায়ক। দেখা যায়, কেউ হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও দু’বেলা দু’মুঠো ভাত খেতে পায় না। কেউ মাথার ঘাম পায়ে ফেলেও গৃহহীন।

আবার অন্যদিকে সমাজের একটি বিশেষ শ্রেণীর হাতে মজুদ সীমাহীন অর্থ। তারা এমন সব ব্যয় নিয়ে মশগুল থাকে- যা খুব সহজেই পরিহার করা যায়। আমোদ-প্রমোদ, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজার হাজার অতিথি আপ্যায়ন প্রভৃতির ব্যয়ভারে প্রচুর অর্থের ব্যাপক অপচয় সাধিত হয়। অন্য যে কোনো হাতেরই হোক তার অপব্যয় রোধ ও সঞ্চয় ব্যক্তি, সমাজ এবং সর্বোপরি জাতির জন্য কল্যাণকর।

অর্থ খরচের তিনটি অবস্থা কার্পণ্য, মিতব্যয় ও অপব্যয়। কার্পণ্য ও অপব্যয়কে ইসলামে নিন্দা জানিয়েছে আর মিতব্যয়কে উৎসাহিত করেছে। এ কারণে মিতব্যয় মধ্যম পন্থা ও উত্তম কাজ। আর অপব্যয় ও কার্পণ্য উভয়টাই নিন্দিত স্বভাব ও গোনাহের কাজ।

Loading...