সংবাদ শিরোনাম
চাঞ্চল্যকর তথ্য, অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন সুশান্তের আগে আত্মঘাতী সেই ম্যানেজার! | হিলি স্থলবন্দরে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পুলিশ মোতায়েন | মির্জাপুরে যাত্রীবাহী বাস উল্টে নিহত ১ | টাঙ্গাইলে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে স্ত্রী’র চোখ উপড়ে ফেললো মাদকাসক্ত স্বামী | আজ বিশ্বব্যাপী করোনা আক্রান্তের সর্বোচ্চ রেকর্ড | মসজিদে প্রথম কাতারে বসবেন অফিসাররা! | লকডাউন শিথিলের পর রাস্তায় নেমে আসলেন যুক্তরাজ্যের লাখো মানুষ | ভারতকে এতবার হারাতাম যে ম্যাচ শেষে মাফ চাইত: আফ্রিদি | নোয়াখালীতে করোনায় একদিনে ৩ জনের মৃত্যু, ২৫ জনের শনাক্ত | ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলকাণ্ডে ২৯০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শাস্তির সুপারিশ |
  • আজ ২১শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নারী শিক্ষায় কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ অনন্য

১:৪৪ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, নভেম্বর ১, ২০১৯ শিক্ষাঙ্গন
Mirzapur Pic

মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, দারুন নিরাপত্তাব্যবস্থা, নিরিবিলি এবং গোছানো পরিবেশ দেখে যে কেউ মুগ্ধ হবে। শিক্ষা গ্রহনের জন্যে যেধরণের অবকাঠামো প্রয়োজন তার সবটাই যেন এখানে বিরাজমান। যে প্রতিষ্ঠানটির কথা বলছি তা টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অবস্থিত মেয়েদের পড়ালেখার জন্য গড়ে উঠা কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ। ঢাকার উত্তরা থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তর, পশ্চিমে বিখ্যাত সমাজসেবক এবং দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ১৯৪৪ সালে নিজ গ্রামে মায়ের নামে প্রতিষ্ঠা করেন কুমুদিনী হাসপাতাল। আর ২০০১ সালে রণদা প্রসাদ সাহার দৌহিত্র (নাতি) রাজীব প্রসাদ সাহার হাত ধরে মির্জাপুরে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেয়েদের জন্য সম্পূর্ণ আবাসিক এই কলেজে এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে এখন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বর্ষে ৬৫৩ জন শিক্ষার্থী পড়ছেন। এমবিবিএস কোর্সে বিদেশি শিক্ষার্থী আছেন ২৪২ জন। এর মধ্যে নেপালের ১৯ জন ও ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের ২২৩ জন শিক্ষার্থী এবং বিডিএসে পড়ছেন ৭৮ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।

Mirzapur

মূল ভবনের নিচতলা ও দোতলায় শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যাধুনিক চারটি লেকচার গ্যালারি। ক্যাম্পাসের খুব কাছাকাছি মেয়েদের থাকার জন্য আছে জয়া, বিজয়া, অমিয় বালা, অরুনিমা, নিউ হোস্টেল-১, নিউ হোস্টেল-২ এবং নির্মাণাধীন আছে আরো একটি হোস্টেল। এমবিবিএস বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আলাদা হোস্টেল ও ডাইনিং সুবিধা।

ক্যাম্পাসসহ নানা বিষয়ে কথা হলো ৫ম বর্ষে কাশ্মীর থেকে পড়তে আসা শফকাতুন নেছা, ছুমাইয়া রশিদ, ছাদাফ রাফিক, সোহেলা জোহের এর সাথে। পাস করে ফিরে যাবেন নিজ জন্ম ভূমিতে করবেন মানব সেবা। ৩য় বর্ষের কাশ্মীরের শিক্ষার্থী কাউছার আনজুম বলেন আমার বান্ধবী পরতেন এই মেডিকেল কলেজে। ওর কাছ থেকেই শুনেছি কুমুদিনীর গল্প। পরিবেশটা অনেক সুন্দর। নেপাল থেকে পড়তে আসা সংগিতা ভাট্টা, প্রশংশা এরাবলেন খুব সুন্দর পরিবেশ এই ক্যাম্পাসে। ক্লাসে কোনো সমস্যা হলে শিক্ষকরা খুব সাহায্য করেন। এছাড়াও কথা হয়েছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাথে হুমায়রা তানজিম, মৃত্তিকা তারুয়া, উম্মে হানি চাদনি, নাদরাতুন নায়মা এদের স্বজনরা এই প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্তন শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের ভাষ্যমতে, পরিচিতজনদের কাছে শিক্ষার পরিবেশ এবং নানা বিষয়ে প্রশংসা শুনেই তারা এখানে পড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ তারা এখানে।

Mirzapur Pic

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপ করে একটি বিষয় পরিস্কার, আর তা হলো তারা এখানে পড়তে আসা সবাই প্রতিষ্ঠানটি সার্বিক ব্যবস্থাপনায় খুশি।

কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল হালিম জানান, এখানে পড়তে আসা মেয়েদের আমরা খুব সহজ করে বুঝতে সাহায্য করি। আমরা চেষ্টা করি মেয়েরা যেন প্রথমে একজন ভাল মানুষ এবং পরে একজন ভাল ডাক্তার হয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। ১০৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন কুমুদিনী হাসপাতাল শিক্ষার্থীদের খুব আন্তরিকতার সাথে শেখার সুযোগ করে দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এখানে যেসব মেয়েরা ভালো ফল করে তাদের জন্য আমরা পুরস্কারের ব্যবস্থা করি। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল অব্যাহত রাখার জন্য যা কিছু প্রয়োজন আমরা করব। রণদা প্রসাদ সাহার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমাদের মেয়েরা দুস্থ ও অসহায় মানুষের সেবা করবে এটাই আমাদের চাওয়া।