গ্রেপ্তারের পর সুরভীর স্বীকারোক্তি: দু’জনকে একাই খুন করেছি

১২:০৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, নভেম্বর ৪, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- রাজধানীর ধানমণ্ডির একটি বাড়িতে দুই নারীকে হত্যার ঘটনার মামলায় আসামি সুরভী আক্তার নাহিদাকে (৩০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার রাত ৮টার দিকে শেরেবাংলা থানা এলাকার নাক কান গলা (ইএনটি) অ্যান্ড হেড-নেক ক্যান্সার ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউটের সামনে থেকে ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার নারী ভোলার কালুপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম ওরফে রহিজল মিয়ার মেয়ে।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগম ও গৃহকর্মী দিতিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সুরভী আক্তার। বলেছে, স্বর্ণালঙ্কার লুট করতে দু’জনকে একাই খুন করেছি।

একা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে সুরভী জানালেও এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি-না সে বিষয়ে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির ২৮ নম্বর সড়কে ২১ নম্বর বাসার পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগম ও গৃহকর্মী দিতির রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে তাদের হত্যা করা হয়। বাসা থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও কিছু টাকা লুট হয়। হত্যার পরই গৃহকর্মী সুরভী আক্তার নাহিদা পালিয়ে যায়।

বাসা থেকে সংগ্রহ করা ঘটনার আগে এবং পরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ সুরভীকে সন্দেহের তালিকায় রাখে। তাকে বাসায় ঢুকতে ও বের হতে দেখা যায় ফুটেজে। সে ওইদিনই বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে যোগ দেয়। তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ জানতে পারে সুরভী বিএনপি বস্তিতে আত্মগোপনে রয়েছে। সেখানে সোর্স নিয়োগের পাশাপাশি পুলিশ গোপনে খুঁজতে থাকে। বস্তিবাসীদেরও এ বিষয়ে অবগত রাখে পুলিশ।

গতকাল রাত ৮টার দিকে বস্তিরবাসীরা তাকে প্রকাশ্যে দেখে ‘খুনি খুনি’ বলে চিৎকার করতে থাকে। এ সময় সে রিকশায় উঠে পালানোর চেষ্টা করে। পরে ওই হাসপাতালের সামনে থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুনশী বলেন, হত্যার পর আমরা জানতে পারি ওই নারী এই এলাকায় আছে। রোববার অভিযান চালিয়ে তাকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। গ্রেপ্তারের পর সুরভী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই নারীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। রাতেই তাকে ধানমন্ডি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

Loading...