• আজ ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জেএসসি পরীক্ষার্থীকে ইটভাটায় ধর্ষণের পর গলাটিপে হত্যা! (ভিডিও)

৩:১২ অপরাহ্ণ | সোমবার, নভেম্বর ৪, ২০১৯ রংপুর

মহিবুল্লাহ্ আকাশ, সময়ের কণ্ঠস্বর :: নীলফামারী সদর উপজেলার গোড়গ্রাম যুগিপাড়ার আবুল দেবনাথের মেয়ে ময়না দেবনাথ (১২)। সে নীলফামারী জেলা সদরের গোড়গ্রাম স্কুল এন্ড কলেজের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী।

শনিবার (২ নভেম্বর) হতে পরীক্ষা শুরু হওয়া জেএসসি পরীক্ষায় পরিক্ষার্থী ছিল সে। কিন্তু সেই পরীক্ষা দেয়া হলো না তার। আগের দিন শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ হয় সে।

ঠিক পরদিন শনিবার সকালে তার মরদেহ পাওয়া যায় বাড়ীর পাশেই ইটভাটার একটি খালে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নীলফামারী সদর থানায় একটি ইউডি (আনন্যাচারাল ডেথ) মামলা হয়েছে।

কিন্তু ঘটনার তিনদিন অতিবাহিত হতে চললেও এখনও এই মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তারা বলছেন, বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে তদন্ত চালাচ্ছেন তারা, সেই সাথে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছেন।

এদিকে ময়নার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ময়না দেবনাথকে শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে বাড়ীতে পাওয়া যাচ্ছিল না। ময়নার বাবা আবুল দেবনাথ জানান, ময়নাকে তার মা শুক্রবার সন্ধায় হাত মুখ ধুঁয়ে বই নিয়ে বসতে বলে। এরপর ময়না হাতমুখ ধোঁয়ার জন্য টিউবওয়েলে যায়। কিন্তু এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

তিনি বলেন, ওই সময়ে পরিচিত কেউ ময়নাকে ডেকে বাড়ির বাইরে নিয়ে যায় এবং বাড়ির সাথেই লাগোয়া হাজী অকছেদ আলী শেখের ইটভাটার ওই পুকুরের পাশে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। চিনে ফেলায় মেরে ফেলা হয় ময়নাকে এবং লাশ ইটভাটার পুকুরে ফেলে দেয়। বলেই কাঁদতে শুরু করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, নিখোঁজ হওয়ার রাতে আমার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে ইটভাটার দারোয়ান রণজিৎ (৩৫) রাত ১১টা পর্যন্ত ইটভাটায় খোজাখুজি করে। শনিবার সকালে ভাটার শ্রমিকেরা মরদেহ পানিতে ভাসতে দেখে আমাকে খবর দিলে পুকুরে আমার মেয়ের লাশ দেখতে পাই। মেয়ের হত্যাকারীদের অতিদ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

ময়নার লাশ পুকুর থেকে যে নারী তুলেছেন তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ময়নার ঠোঁটে অসংখ্য কামড় ছিল। কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছিল মেয়েটির ঠোঁট। এরপর পায়জামার ফিতা শক্ত করে বেঁধে দেয়া ছিল, যেভাবে কোন মেয়ে পায়জামার ফিতা লাগায় না। কপালে ছিল আচড়ের দাগ। তার গলায়ও দাগ ছিল।

তিনি বলেন, দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় মেয়েটাকে ধর্ষণ করে অনেক কষ্ট দিয়ে মেরেছে নরপিশাচরা।

অপরদিকে ময়নাকে হত্যার সাথে যারা জড়িত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন গোড়গ্রাম স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষকরা। সেই সাথে তারা বলেন, ময়না অত্যন্ত ভদ্র ও নম্র স্বভাবের মেয়ে ছিল।

এলাকাবাসীও বললেন, ময়না হিন্দু হয়েও মাথায় সবসময় কাপড় দিতো, সবসময় মাথা নিচু করে হাটতো। তার সম্পর্কে কখনও কোন বাজে কথা তারা শোনেননি, অথচ সেই মেয়েকে এভাবে মারলো নরপিশাচরা! এ ঘটনায় তারা স্তম্ভিত ও নিজ সন্তানদের নিয়ে চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আমার পাশাপাশি ওসি (তদন্ত), আমার এসআইরা কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা অতিদ্রুত এই ঘটনার ক্লু উদঘাটনে সক্ষম হবো। অপরাধী যত চালাকই হোক আইনের হাত থেকে কেউ পার পাবে না।

ভিডিও দেখুন-

Loading...