সুন্দরবনে হরিণ শিকারের ফাঁদ ও ট্রলারসহ ৬০ জন আটক

৪:৫৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, নভেম্বর ৫, ২০১৯ খুলনা, দেশের খবর

মংলা সংবাদদাতা- সুন্দরবনের দুবলার চরে ১০ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের রাস উৎসব। ৩ দিন ব্যাপি এই রাস উৎসবে দেশি-বিদেশি পুণ্যার্থী, ভক্ত ও পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রতি বছরের মতো এবারও আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের।

রাস উৎসব উপলক্ষ্যে এরই মধ্যে মন্দির নির্মাণসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মেলা উদ্যাপন কমিটি। এদিকে রাস উৎসবকে সামনে রেখে হরিণ শিকারি চক্রগুলোও এরই মধ্যে তৎপর হয়ে উঠেছে। রাস মেলায় তীর্থযাত্রী বা দর্শনার্থীর আড়ালে এসব চোরা শিকারির দল হরিণ নিধনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ চক্রের অনেক সদস্য এরই মধ্যে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে।

বাকি সদস্যরা সময়-সুবিধামতো নানা কৌশলে বনের অভ্যন্তরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। এরই মধ্যে সুন্দরবনের নন্দবালা এলাকা থেকে হরিনের ফাঁদসহ ৬০ ব্যক্তিকে আটক করেছে বন বিভাগ।

পূর্ব সুন্দরবন চাদপাই ক্যাম্পের ইনচার্জ কামরুল হাসানের নেতৃত্বে মঙ্গলবার ভোরে বনের নন্দবালা খাল সংলগ্ন নদী থেকে তিনটি ইঞ্জিন চালিত ট্রলারসহ তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র, হরিণ শিকারের ফাঁদ ও নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়। আটককৃত সকলেই বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গৌরম্বা ইউনিয়নের বাসিন্ধা।

সুন্দরবনের চাদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহিন কবির জানান, বন বিভাগের নিয়মিত টহলের সময় তাদের আটক করা হয়। বন বিভাগের অনুমতিবিহীন তারা অসৎ উদ্দ্যেশে বনে প্রবেশ করতেছিলেন। তাদের নিকট থেকে হরিণ স্বীকারের নানা রকম সরঞ্জামাদি পাওয়া যায়। আটককৃতদের বন আইনে সাজার ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সাথে পরবর্তীতে সুন্দরবনে কোন পাচারকারী অপতৎপরতা চালাতে না পারে সে দিকে তাদের নজরদারী থাকবে বন বিভাগের।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর বাগেরহাট জেলার আহ্বায়ক মো. নুর আলম শেখ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও রাস মেলাকে টার্গেট করে চোরা শিকারির দল হরিণ ও অন্য বন্যপ্রাণি নিধন করতে পারে। তিনি এ ব্যাপারে বন বিভাগসহ প্রশাসনের নজরদারি আরো জোরদার করার আহ্বান জানান।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং বন ও বন্যপ্রাণি রক্ষায় বন বিভাগের পাশাপাশি নৌবাহিনী, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, পুলিশ সদস্যরা নিয়োজিত থাকবে। চোরা শিকারিদের ব্যাপারে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানে রয়েছি। সাধারণত দেখা যায় মাছ ধরার অনুমতি নিয়ে এসব অপকর্ম করা হয়। তাই আপাতত আমরা জেলেদের সুন্দরবনে ঢোকার অনুমতি দিচ্ছি না। শুধু পুণ্যার্থীরা যাচ্ছেন। তাছাড়া রাতে বনে কোনো ট্রলার চলাচলের অনুমতিও দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি আরো জানান, কন্ট্রোল রুমে সার্বক্ষণিক একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তদারকির দায়িত্বে থাকবেন। এবার রাস উত্সবের নিয়মাবলিতে একটু ভিন্নতা আনা হয়েছে। অন্যান্য বছর পুণ্যার্থীরা রাতেরবেলায় রওনা হতো। কিন্তু এবার নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারণে ১০ নভেম্বর সকাল ছয়টা থেকেই যাত্রা শুরু হবে। তাছাড়া আলোর কোলে নারী পুণ্যার্থীদের পোশাক পরিবর্তনের জন্য আলাদা শেড ও পর্যাপ্ত টয়লেট তৈরি করা হয়েছে। তিন দিনের এ রাস মেলায় প্রশাসন, বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

রাস উৎসবের আয়োজক কমিটির সভাপতি কামালউদ্দিন আহম্মেদ জানান, ধর্মভীরু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা দুবলার মেলায় মানত করে এবং বছরের এ সময় এসে মানতকারীরা আনুষঙ্গিক অনুষ্ঠানাদি সম্পন্ন করে থাকে। আবার কেউ কেউ জীবনের কৃত পাপ মোচন হবে মনে করে এ স্থানে আসে এবং সমুদ্রের ঢেউয়ের মধ্যে স্নান করে পূত-পবিত্র হতে দেখা যায়। এ সময় মন্ত্রাদি উচ্চারণ করে পাঁঠা, ছাগল, ফল ও মিষ্টি সাগরে নিক্ষেপ করতে দেখা যায় ভক্তদের।

বন বিভাগ জানায়, দুবলার চরেন আলোর কোলে রাস উৎসবে আগতদের যাতায়াতের জন্য সুন্দরবন বিভাগ আটটি রুট নির্ধারণ করছে। প্রত্যেক পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থী তিন দিন সুন্দরবনে অবস্থানের জন্য ৫০ টাকা, নিবন্ধিত ট্রলার ২০০ টাকা এবং অনিবন্ধিত ট্রলারে ৮০০ টাকা রাজস্ব ধরা হয়েছে।

Loading...