টাকা চুরির অভিযোগে ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা!

১১:৩৫ অপরাহ্ণ | বুধবার, নভেম্বর ৬, ২০১৯ ঢাকা

স্টাফ রিপোর্টার, মাদারীপুর :: মাদারীপুর সদর উপজেলার গাছাবাড়ীয়া জামিয়া কারিমিয়া মাদ্রাসের টাকা চুরির অভিযোগে শিক্ষকের নির্যাতনে বুধবার সন্ধ্যায় হাসিব নামে (১০) এক ছাত্রে মৃত্যুর অভিযোগে শিক্ষক ইলিয়াছ মোল্লাকে আটক করেছে পুলিশ। হাসিব মাতুব্বর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের শ্রীনাদী এলাকার ভ্যান চালক আনোয়ার মাতুব্বরের ছেলে।

হাসিবের পরিবারের অভিযোগ , গত রবিবার ৫শত টাকার চুরি অভিযোগে ২য় শ্রেণীর ছাত্র হাসিবকে নির্যাতন করে ঔ মাদ্রসার শিক্ষক ইউসুফ মোল্লা। এরপর হাসিব মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে তার নিজ বাড়ী চলে গেলে বুধবার সকালে তার বাবা-মা পুণরায় মাদ্রাসায় দিয়ে গেলে আবারও আশিককে নির্যাতন করলে গুরুত্বর আহত হয়। বিকালে কয়েকজন শিক্ষক নির্যাতনে কথা ধামাচাপা দিতে হাসিবের মুখে বিষ (কিটনাশক) ঢেলে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশিকের মৃত্যু হয়। এসময় হাসপাতালে নিয়ে আসা সকল মাদ্রাসার শিক্ষক পালিয়ে গেলেও আবুল বাসার নামে একজনের কথায় সন্দেহ হলে হাসপাতাল কতৃপক্ষ পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে আটক করে।

হাসিবের বাবা আনোয়ার মাতুব্বর কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, আমার ছেলেকে মাত্র ৫শত টাকা চুরি অভিযোগে নির্যাতন করে আমার ছেলে কে মেরে ফেলেছে। আমার ছেলেকে ফেলে সেটা ধামাচাপা দেয়ার জন্য মুখে বিষ দিয়ে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে।

মাদ্রাসার পাশে নির্মান শ্রমিকের কাজ করার কালাম ফকির জানান, আমি ঔ মাদ্রাসার পাশে একটি বাড়ীতে কাজ করছিলাম হঠাৎ দেখি একটি ছেলে মাদ্রাসার বাহিরে ছটপট করছে। আমি দৌড় দিয়ে কাছে গিয়ে সবাইকে ডাক দিলে মাদ্রাসার শিক্ষকসহ ছাত্ররা বের হয়ে আসে এবং ঔসময় তাকে একটি ভ্যানে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর কি হয়েছে আমি জানি না।

এব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক ইউসুফ আলি মোল্লা ফোনে জানান, বাড়ী থেকে যে টাকা মাদ্রাসার জন্য দেয়া হতো সব টাকা বিভিন্ন ভাবে খরচ করে ফেলেছে হাসিব। এবং আমার টাকা চুরি করায় আমি তাকে কয়েকটি আঘাত করেছিলাম এরপর সে পালিয়ে বাড়ী চলে গিয়েছিল আজ সকালে তার মা এসে আবার আমাদের মাদ্রাসায় দিয়ে গেলে আমরা রাখতে চাইনি তারপর অনুরোধ করে রেখে যায়। এরপর আমি ও মাইনুল ইসলাম স্যার ১টার আগেই কালকিনি চলে আসি ওয়াজ মাওফিল শুনতে এরপর সন্ধ্যায় জানতে পারি হাসিব হাসপাতালে মারা গেছে। আজ কোন ঘটনাই ঘটে নাই তার সাথে। আমি চাই সঠিক ঘটনা বের হোক।

গাছাবাড়ীয়া জামিয়া কারিমিয়া মাদ্রাসার কমিটির সাধারন সম্পাদক হাবিব হাওলাদারকে একাধিকবার ফোন দিয়ে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সওগাতুল আলম জানান এব্যাপারে এখনো কোন মামলা হয় নাই। আমার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে নিয়ে এসেছি। মামলা হলে আমরা তদন্ত করে আইগত ব্যবস্থা নেব।