এক নজরে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ইতিহাস

২:২৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, নভেম্বর ৯, ২০১৯ ইতিহাস-ঐতিহ্য

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ৬ ডিসেম্বর ১৯৯২। মানবতার ইতিহাসের একটি কলঙ্কিত দিন। ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী ও কট্টর সাম্প্রদায়িক ‘সঙ্ঘ পরিবার’ সেদিন ঐতিহাসিক ‘বাবরি মসজিদ’ গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদার তৎকালীন সরকার এর প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং মদদ দিয়েছে গণতন্ত্র, সভ্যতা ও ন্যায়নীতির দুশমনদের।

ভারতের উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যার ৫০০ বছরেরও পুরনো ‘বাবরি মসজিদ’ মুসলমানদের সাথে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে বিশ্বহিন্দু পরিষদের উন্মত্ত করসেবকদের হাতে বিনা বাধায় গুঁড়িয়ে দেয়া হলো। পুরনো এই কাঠামোটি ভাঙতে করসেবকদের সময় লাগল ঠিক পাঁচ ঘণ্টা। আর, কাঠামোর রক্ষণবেক্ষণের দায়িত্ব যাদের হাতে ন্যস্ত ছিল, উত্তরপ্রদেশ সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন সেই সিআরপিকে কোনো রকম নির্দেশ দেয়া হলো না।

প্রাদেশিক সশস্ত্র বাহিনী (পিএসসি) বা উত্তরপ্রদেশের পুলিশ ফৈজাবাদের স্পেশাল পুলিশ সুপার (এএসপি) ডিবি রায়ের কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার নির্দেশও উপেক্ষা করল। ভাঙচুরের পর করসেবকরা যাওয়ার সময় প্রত্যেক বিতর্কিত কাঠামোর স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে একটি করে ইট নিয়ে যায়। মসজিদ কাঠামো ভাঙতে গিয়ে আহত হয়েছে শ’ দেড়েক করসেবক। দেয়াল চাপা পড়ে মারা গেছে চারজন।

বাবরি মসজিদ ভাঙার প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে সারা ভারতে। সাম্প্রদায়িকতার লেলিহান শিখায় রাজ্যে রাজ্যে রক্ত ঝরে মুসলমানদের। এক সপ্তাহের মধ্যে নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়। প্রতিক্রিয়া পড়ে সারা বিশ্বেও। সংশয় দেখা দেয় ভারতের সংহতি রক্ষা নিয়েও। আসলে ভারত গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে বরাবর ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে সরকারগুলো। এটা ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ওই প্রতিবেদনে ১৯৫৪ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ৩৯ বছরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সংখ্যা ১৩ হাজার ৫৫৮, নিহতের সংখ্যা ১৪ হাজার ৪২১ এবং আহতের সংখ্যা ১১ হাজার ৫৫৮, নিহতের সংখ্যা ১৪,৪২১ এবং আহতের সংখ্যা এক লাখ ১৫ হাজার ১৩ জন উল্লেখ করা হয়। বিস্তারিত পরিসংখ্যানটি ‘হংকং মুসলিম হ্যারাল্ড’ পত্রিকায় পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে ভারতে প্রতিদিন গড়ে একটি করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথা উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতেও এই পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হয়নি।

পরবর্তীকালে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায় যে, ঘটনাটির সঙ্গে ৬৮ জন জড়িত, যাদের মাঝে কিছু বিজেপি এবং ভিএইচপির নেতারও নাম বিদ্যমান।

Loading...