প্রথম বছরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আয় আড়াই কোটি!

৩:১৩ অপরাহ্ণ | শনিবার, নভেম্বর ৯, ২০১৯ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ মহাকাশে ২০১৮ সালের মে মাসে যাত্রা করলেও বাণিজ্যিক সেবা দেয়া শুরু করে ২০১৯ সালে। বর্তমানে দেশের সব টেলিভিশন এ স্যাটেলাইট থেকে সেবা গ্রহণ করছে। একটি মোবাইল ফোন অপারেটরসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট থেকে বাণিজ্যক সেবা নিচ্ছে।

দেশের প্রথম এ স্যাটেলাইট থেকে আরও বাণিজ্যিক সেবা দেয়ার সুযোগ আছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিসিএসসিএল সাত প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যিকভাবে সেবা দিতে শুরু করে। পরীক্ষামূলকভাবে ছয়টি টেলিভিশন চ্যানেলসহ আরও তিন প্রতিষ্ঠানকে সেবা দেয়।

এসব থেকে গত অর্থবছরের জুন পর্যন্ত তাদের আয় হয়েছে মোট দুই কোটি ৫৯ লাখ ৩৫ হাজার ৭৩২ টাকা। এ সময়ে স্যাটেলাইট ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে বিসিএসসিএলকে খরচ করতে হয়েছে ১৭ কোটি ৯৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। অবশ্য এ টাকা তারা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছ থেকে পেয়েছে।

সম্প্রতি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বিসিএসসিএল জানায়, আগের অর্থবছরে সব মিলে তারা মোবাইল ফোন অপারেটর বাংলালিংকসহ দুই ডিটিএইচ কোম্পানি আকাশ ও বায়ারের কাছে স্যাটেলাইটের ব্যান্ডউইথ এবং ট্রান্সপন্ডার ভাড়া দিয়ে আয় করেছেন। তাছাড়া এডিএন ও স্কয়ারসহ আরো দুটি কোম্পানিও বিসিএসসিএল’র কাছ থেকে সেবা নিয়েছে।

গত মে মাসে ছয়টি টেলিভিশন কোম্পানি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সেবা নেয়া শুরু করে। অক্টোবরে এসে সব টেলিভিশন একবারে বাণিজ্যিকভাবে সেবা গ্রহণ করতে শুরু করেছে। আপাতত এগুলোর বাইরে স্যাটেলাইটের আয়ের আর কোনো বন্দোবস্ত হয়নি।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী বছর থেকে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক একটি প্রতিষ্ঠানকে পরিণিত হবে।

এদিকে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, স্যাটেলাইট আমাদের স্বপ্নের জিনিস। পৃথিবীর ৫৭তম স্যাটেলাইট উেক্ষপণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ গর্বিত। বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক উচ্চ প্রযুক্তির এই স্যাটেলাইট আমাদের সন্তানরাই নিখুঁতভাবে পরিচালনা করছে। এটাও বাঙালির আরো একটি গর্বের জায়গা।

তিনি বলেন, ২০২৩ সালের মধ্যে আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণ করার কার্যক্রম শুরু করেছি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ কি ধরনের স্যাটেলাইট হবে সেটাও নির্ধারণ করার বিষয়টি জরুরি। তিনি এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

এটিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। ২০২৩ সালের মধ্যে বঙ্গবন্ধু-২ উৎক্ষেপণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দেন।

Loading...