ঘূর্ণিঝড় বুলবুল: নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সমুদ্রে নামছে পর্যটকরা

৩:২৭ অপরাহ্ণ | শনিবার, নভেম্বর ৯, ২০১৯ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

তাহজীবুল আনাম, কক্সবাজার প্রতিনিধি- ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত উত্তাল রয়েছে। সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের খবর শুনে আতঙ্কে রয়েছে।

গতকাল কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কমিটির বৈঠক হয়েছে। সেখানে কক্সবাজারে ঘূর্ণিঝড় নিয়ে যারা কাজ করেন তারা সকলে উপস্থিত ছিলেন।

তারা জানিয়েছেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কক্সবাজারে খুব বেশি পড়বে না। তবে ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী বৃষ্টি এবং জলোচ্ছ্বাসের ফলে উপকূলীয় মানুষের সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতি হতে পারে।

অপরদিকে সেন্টমার্টিনের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। বিশেষ করে সেন্টমার্টিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঘুরতে আসা এক হাজারের অধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। বৈরী আবহাওয়ায় সেন্ মার্টিন থেকে জাহাজ ছেড়ে না আসায় তারা ফিরে আসতে পারেনি।

সেন্ট মার্টিনে কয়েকজন পর্যটকদের সাথে কথা বলে তারা জানিয়েছেন, তাদের আনন্দ অনেকটা মাটি হয়ে গেছে। সেখানে তারা খুব আতঙ্কে রয়েছে। মহিলা শিশুদের জন্য স্থানীয় প্রশাসন থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। যে সমস্ত পর্যটকদের টাকা পয়সা শেষ হয়ে গেছে তাদের সেখানে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুর রহমান জানান, কক্সবাজারে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ কক্সবাজার থেকে ৪৮০ কিলোমিটার পশ্চিম দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছে। সমুদ্রে স্বাভাবিক জোয়ার থেকে ৩-৫ ফুট অধিক উচ্চতায় জোয়ার আসার সম্ভাবনা বেশি।

তিনি আরও জানান, টুরিস্ট পুলিশের সাথে কথা বলে আবহাওয়ার সর্বশেষ অবস্থা জানানো হয়েছে। যাতে সমুদ্রে কাউকে নামতে দেওয়া না হয়।

তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায় সকল বাধা উপেক্ষা করে সমুদ্রে নামছেন পর্যটকরা।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান জানান, আমরা আবহাওয়া কার্যালয়ের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছি। সমুদ্রের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশ মাইকিং করে পর্যটকদের সতর্ক করা হচ্ছে। এ কাজে অর্ধ-শতাধিক টুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে বলে জানান টুরিস্ট পুলিশের এই কর্মকর্তা।

Loading...