মহাবিপদ সংকেত উপেক্ষা করে মাছ শিকারে মেঘনায় হাজারো জেলে

৫:৩০ অপরাহ্ণ | শনিবার, নভেম্বর ৯, ২০১৯ দেশের খবর, বরিশাল

এস আই মুকুল, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ভোলার উপকূলের জেলেরা ঘূর্ণীঝড় ‘বুলবুল’ এর মহাবিপদ ১০ নম্বর সংকেত উপেক্ষা করে মেঘনায় মাছ শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানির আশংকা রয়েছে।

সকাল থেকে ভোলার মেঘনা নদীর তুলাতুলি, ভোলার খাল, মনপুরা উপজেলাসহ বেশ কিছু ঘাট থেকে নদীতে মাছ শিকারে যেতে দেখা গেছে জেলেদের।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ভোলা মেঘনা তুলাতুলি পাড়ে গিয়ে দেখা যায় জেলেরা ছোট ছোট নৌকা ও ইঞ্জিন চালিত ট্রলার নিয়ে মাছ শিকারে যাচ্ছেন। তাদের মাঝে ঘুর্ণিঝড়ের কোনো শংকা দেখা যায়নি। তবে জেলেরা বলছেন, আকাশ মেঘলা থাকলে নদীতে মাছ বেশী পাওয়ায় সে জন্য তারা মাছ শিকারে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি বেশী খারাপ হলে তারা তীরে চলে আসবেন।

এদিকে বেলা বারার সাথে সাথে বৃষ্টির পাশাপাশি মেঘনা নদীও উত্তাল হতে শুরু করছে। ক্রমেই বাড়ছে নদীর গর্জন। এতেও জেলেরা কোনো রকম শংকা ছাড়াই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরছেন।

তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে গতকাল শুক্রবার থেকেই ভোলার সকল মাছ ধরার ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে।

অপরদিকে সরেজমিনে ভোর থেকে মনপুরার মেঘনা পাড়ের বিভিন্ন ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, মেঘনায় হাজার হাজার জেলে নৌকা মাছ শিকারে ব্যস্ত। মৎস্য ঘাটের আড়তগুলো রয়েছে খোলা।

মনপুরার বিচ্ছিন্ন চরনিজাম ও কলাতলীর চরে অবস্থানরত ২০ হাজার মানুষ এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে এসে পৌছেনি। সকাল থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিসহ ধমকা হাওয়া বইছে।

চরনিজামের ইউপি সদস্য নুরনবী মুঠোফোনে জানান, রাতে রেডক্রিসেন্ট সদস্য সহ মসজিদে মসজিদে মাইকিং করা হয়েছে। তারপরও মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আসছেনা। একই অবস্থা বিছিন্ন কলাতলীরচরে।

এছাড়াও শনিবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় ইউপি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার চৌধুরী দীপকের উদ্যোগে মনপুরা থেকে বিচ্ছিন্ন পশ্চিম পাশে শামসুদ্দিন চরে অবস্থানরত ১৮ পরিবারকে মূল ভূ-খন্ডে নিয়ে আসার জন্য ৩টি ট্রলার পাঠানো হয়েছে ।

ভোলার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আজহারুল ইসলাম জানান, আমি সকাল থেকেই নদীর পাড়ে পাড়ে গিয়ে জেলেদেরকে নদীতে যেতে নিষেধ করেছি। তবে এর পরও কিছু জেলে নিষেধাজ্ঞা না মেনে নদীতে মাছ শিকারে গিয়েছে। আমরা কোস্টগার্ডের সাথে কথা বলে তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে আনার ব্যবস্থা করতেছি।

Loading...