বুলবুলের তাণ্ডবে সাতক্ষীরায় ২ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

১:৪৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, নভেম্বর ১০, ২০১৯ খুলনা, দেশের খবর

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দুই লক্ষাধিক মানুষ। তবে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলার কোথাও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

উপকূলীয় এলাকা শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন অঞ্চলেও কমবেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, বুলবুলের তাণ্ডবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শ্যামনগরের গাবুরা, রমজাননগর, কৈখালী ও মুনসীগঞ্জ ইউনিয়ন। এখানে বেশ কয়েকটি নদীর বেড়ীবাধে ফাটল দেখা দিয়েছে। জেলায় দুইলক্ষ ২৬ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩২ হাজার কাঁচা ও পাকা ঘর বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৬ হাজার ঘরবাড়ি।

এছাড়া ফসলের ক্ষেত ও চিংড়ি ঘের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, স্বেছাসেবকরা কাজ করে যাচ্ছে।

শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম বলেন, এলাকায় একটি ঘরবাড়িও নেই। এখানকার বেশিরভাগ ঘরবাড়িই হচ্ছে মাটির তৈরি। দুই একটি টিনের। মাটির তৈরি ঘরবাড়ি ও টিনের ঘরবাড়ি সব বিধ্বস্ত হয়েছে। আমার ইউনিয়নে পাঁচ হাজারেরও অধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। রাস্তাঘাটে গাছপালা পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এলাকার মাছের ঘেরগুলো সব ভেসে গেছে।

একই উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভবতোষ মন্ডল বলেন, ইউনিয়নের দুই হাজারেরও অধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। মাটির তৈরি কোনো ঘরবাড়িই ভালো নেই। রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। মাছের ঘেরগুলোও ভেসে গেছে।

অন্যদিকে আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা শাকিল জানান, হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। মানুষের থাকার জায়গাটুকুও অবশিষ্ট নেই। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

Loading...