শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ

৯:৫৮ অপরাহ্ণ | রবিবার, নভেম্বর ১০, ২০১৯ খেলা
liton

স্পোর্টস আপডেট ডেস্কঃ ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ১৭৫ রান। এমন সমীকরণের ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়। শুরুতেই সাজঘরের পথ ধরলেন মারকুটে দুই ব্যাটসম্যান লিটন দাস আর সৌম্য সরকার। ১২ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে বসেছে বাংলাদেশ।

ব্যাটিংয়ে নেমে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ক্যাচ তুলে দেন সৌম্য সরকার। লিটন ৯ রান করলেও গোল্ডেন ডাক পান সৌম্য। ২.৫ ওভারে মাত্র ১২ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপের মধ্যে পড়েছে বাংলাদেশ।

এর আগে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ নির্ধারণী খেলায় টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শ্রেয়াস আয়ার ও লোকেশ রাহুলের ফিফটিতে নির্ধারিত ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিক ভারত।

নাগপুরের বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ-ভারত। ম্যাচটি শুরু হয় বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যে সাড়ে সাতটায়। টসে জিতে ভারত ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে শুরুটা দুর্দান্ত করে বাংলাদেশ।

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে শফিউলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন ভারতীয় অনিয়মিত অধিনায়ক রোহিত। সেই ম্যাচে ৯ রানে আউট হওয়া রোহিত তৃতীয় ম্যাচে ফেরেন ৬ বলে মাত্র ২ রান করে। রোহিত শর্মার বিদায়ে ১.৩ ওভারে দলীয় ৩ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ভারতের।

এরপর দলীয় ৩৫ রানে ভারতীয় শিবিরে ফের আঘাত হানেন শফিউল। তার বলে ডিপ মিডউইকেটে ফিল্ডিং করা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন শেখর ধাওয়ান। সাজঘরে ফেরার আগে ১৬ বলে ১৯ রান করার সুযোগ পান তিনি।

ধাওয়ান আউট হওয়ার পর শফিউলের ওই ওভারের পঞ্চম বলে ক্যাচ তুলে দেন নতুন ব্যাটসম্যান স্রেয়াশ আয়ার। কিন্তু স্কয়ার লেগে ফিল্ডিং করা অনিভিজ্ঞ আমিনুল ক্যাচটি তালুবন্দি করতে পারেননি।

দলীয় ৩৫ রানের দুই ওপেনারের বিদায়ের পর হাল ধরেন লোকেশ রাহুল। তার ব্যাটে প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে খেলায় ফেরে স্বাগতিকরা। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৩৩ বলে ক্যারিয়ারের ৩১তম ম্যাচে ষষ্ঠ ফিফটি তুলে নেন রাহুল।

ফিফটির পর ব্যাটিং তাণ্ডব শুরু করার আগেই আল-আমিন হোসেনের শিকার হন তিনি। আল আমিনের বলে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ তুলে দেয়ার আগে ৩৫ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ৫২ রান করেন রাহুল। তার বিদায়ে ১২.১ ওভারে ৯৪ রানে তিন উইকেট হারায় ভারত।

শূন্য রানেই সাজঘরে ফেরার কথা ছিল স্রেয়াশ আয়ারের। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় বলেই ক্যাচ তুলে দেন তিনি। কিন্তু স্কয়ার লেগে ফিল্ডিং করা অনভিজ্ঞ আমিনুল ক্যাচটি তালুবন্দি করতে পারেননি। যে কারণে দলীয় ৩৭ রানে শফিউল ইসলামের বলে লাইফ পান স্রেয়াশ।

ইনিংসের শুরুতে নতুন জীবন পেয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন ভারতীয় এ তরুণ ব্যাটসম্যান। ১৫তম ওভারে আফিফ হোসেনকে টানা তিন বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ২৭ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি পূর্ণ করেন।

ভারতের ইনিংস শেষ হওয়ার ১৯ বল আগে অনিয়মিত বোলার সৌম্য সরকারের বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে লং অফের ফিল্ডার লিটন দাসের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। সাজঘরে ফেরার আগে মাত্র ৩৩ বল খেলে দৃষ্টি নন্দন ৫টি ছক্কা ও তিন চারের সাহায্যে ৬২ রান করেন।

সৌম্যর যে ওভারে স্রেয়াশ আয়ার আউট হন সেই ওভারের প্রথম বলেই আউট হন রিশব প্যান্ট। তিনি সৌম্যর বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন। ১৭ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রান করা ভারত শেষ তিন ওভারে তুলে নেয় ৩০ রান। তাতেই ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭৪। বাংলাদেশ দলের হয়ে দুটি করে উইকেট শিকার করেন শফিউল ও সৌম্য।

Loading...