‘আমাদের ভিক্ষুক ভাববেন না, বাবরি মসজিদ মুসলিমদের বৈধ অধিকার’

২:৩০ অপরাহ্ণ | সোমবার, নভেম্বর ১১, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- কয়েক দশকের আইনি লড়াইয়ের পর শনিবার উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ মামলার রায় দিয়েছে ভারতের সুপ্রিমকোর্ট। এতে প্রায় পাঁচশ বছর আগে নির্মিত মসজিদটির জমি মন্দির নির্মাণে হিন্দুদের দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর মসজিদটি ভেঙে মাটিতে মিশিয়ে দেয় দেশটির হিন্দুত্ববাদীরা। আর মসজিদ নির্মাণে মুসলমানদের শহরের অন্যত্র পাঁচ একরের একখণ্ড জমি দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ভারত সরকারকে।

এদিকে বাবরি মসিজদ মামলার রায় নিয়ে দেশ-বিদেশে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের রায় ঘোষণার পরই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রায় প্রত্যাখ্যান করেছিলেন সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।

মসজিদ নির্মাণে বিকল্প পাঁচ একর জমির প্রস্তাব দিয়ে মুসলমানদের অপমানিত করা হয়েছে বলে মনে করেন মজলিস-ই-ইত্তেহাদুলের এ নেতা। ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে রোববার এক সমাবেশে তিনি বলেন, বাবরি মসজিদ আমাদের বৈধ অধিকার। আমরা ভূমির জন্য লড়াই করিনি। আমরা দান কিংবা অনুগ্রহ চাইনি। আমাদের ভিক্ষুক ভাববেন না। আমরা দেশের সম্মানিত নাগরিক।

তিনি বলেন, আজ মুসলমানরা কী দেখতে পাচ্ছেন? সেখানে একটি মসজিদ ছিল, কয়েকশ বছর ধরে, সেটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এখন সেখানে মন্দির নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জমিটি এখন রাম লালার অধিকারে চলে যাবে।

ওয়াইসি বলেন, কোনো এক ব্যক্তি যদি আপনার বাড়ি ভেঙে ফেলেন, আপনি সালিশে গেলেন, কিন্তু বিচারক আপনার বাড়িটি তাকেই দিয়ে দিলেন, যিনি সেটি গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। আর আপনাকে বিকল্প একখণ্ড ভূমি দিলেন। তখন আপনার কেমন লাগবে?

হায়দরাবাদের এই এমপির প্রশ্ন হচ্ছে- যদি মসজিদটি অবৈধভাবেই স্থাপিত হয়ে থাকে, তা হলে এল কে আদভানিসহ অন্যদের কেন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। আর বৈধ জায়গায় হলে কেন সেই জমি তাকে দেয়া হলো।

বিচার না মানায় যারা তার সমালোচনা করেন, তাদের তুলাধোনা করলেন ওয়াইসি। তিনি বলেন, রায়ের বিরোধিতা করার গণতান্ত্রিক অধিকার তার রয়েছে।

মসজিদের পক্ষ হয়ে সুপ্রিমকোর্টে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া আইনজীবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। অশীতিপর আইনজীবী রাজীব দেওয়ান ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, রাজীব সাহেবকে ধন্যবাদ জানানোর মতো ভাষা আমার জানা নেই। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে- তিনি মামলাটি নিয়েছেন এবং কঠিন সময় লড়াই করে গেছেন।

বিজেপি ও সংঘ পরিবার যখন মসজিদের একটি তালিকা বানিয়েছে, তখন বাবরি মসজিদের জন্য লড়াই করে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, সংগঠন দুটি বলতে চাচ্ছে, তারা কোনো তালিকা করেনি। যদি না-ই করত, তবে কাশি ও মাথুরা মসজিদের মামলা কেন তারা প্রত্যাহার করছে না।

ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো মুসলমানদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলেও জানান তিনি। সুপ্রিমকোর্টের রায় নিয়ে কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়ারও নিন্দা জানিয়েছেন এ রাজনীতিবিদ।

Loading...