ডিনের পদত্যাগসহ নয় দফা দাবিতে আন্দোলনে বাকৃবি শিক্ষার্থীরা

১০:৪৮ অপরাহ্ণ | সোমবার, নভেম্বর ১১, ২০১৯ শিক্ষাঙ্গন
bau

বাকৃবি প্রতিনিধিঃ অ্যাম্বুলেন্স সংখ্যা বাড়ানো, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মানোন্নয়ন,পরীক্ষা পিছানোকে কেন্দ্র করে ডিন অফিসে বিশৃঙ্খলাকারীদের শাস্তি প্রত্যাহারসহ নয় দফা দাবিতে আন্দোলন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আন্দোলন করেন ওই শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে তৎক্ষণাৎ নতুন দাবি হিসেবে ভেটেরিনারি অনুষদের ডিনের পদত্যাগ দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ভেটেরিনারি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও মালয়েশিয়ার নাগরিক হারানি জানাকি রামান অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে হাসপাতালে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ফোন করলে সেটি পাওয়া যায়নি। ওই সময় আরেক রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি ময়মনসিংহ শহরে অবস্থান করছিল। রামানের সহপাঠীরা অটোরিক্সায় করে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নিয়ে যান। রামান শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১টা ১৫ মিনিটে রামান মারা যান।

ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ইস্যুকে কেন্দ্র করে রবিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স সংখ্যা বাড়ানো, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মানোন্নয়ন, সার্বক্ষণিক ডাক্তারের উপস্থিত দাবি নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। একই দাবি নিয়ে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে আবারও রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করে ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরা। এই সময়ে উপাচার্য উপস্থিত হয়ে তাদের দাবিসমূহ দ্রুত সময়ে সমাধানের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা তখন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. নাজিম আহমাদের পদত্যাগের দাবিতে শ্লোগান দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে উপাচার্যকে বলেন, এই ডিন শিক্ষার্থীবান্ধব নন। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের হয়রানি করেছেন। অনৈতিকভাবে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শান্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভেটেরিনারি অনুষদের জানু/জুন-২০১৯ স্নাতক ফাইনাল পরীক্ষা পিছানোকে কেন্দ্র করে কয়েকজন শিক্ষার্থী ডিন অফিসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং ডিনসহ শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অফ রেসিডেন্স এন্ড ডিসিপ্লিন কমিটির সভায় ১৬ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন শাস্তি প্রদান করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, পরীক্ষা না পেছানো এবং শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় বেশ কিছু শিক্ষার্থীর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হওয়ায় অনেকেই ডিনের উপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। শাস্তি প্রত্যাহারের দাবিতে তারা বিভিন্নভাবে ডিনকে চাপ প্রয়োগ করলেও তিনি শাস্তি প্রত্যাহার করেন নি। এ কারণেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন।

এ বিষয়ে ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন নাজিম আহমাদ বলেন, শিক্ষার্থীরা কেন পদত্যাগ চাচ্ছে তা আমার বোধগম্য নয়। শাস্তিমূলক কারণ ছাড়া কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

Loading...