মর্গে ছোঁয়া মনির নিথর দেহ, ঢাকার পথে আহত বাবা-মা

৪:৫৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- তিন বছরের শিশু ছোঁয়া মনি। তার বাবার নাম সোহেল মিয়া, মা নাজমা বেগম। হবিগঞ্জের বানিয়াংয়ের বাসিন্দা তারা। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মন্দবাগে মর্মান্তির ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তারা। আহত হয়েছিল তাদের কোলে থাকা শিশু সন্তান ছোঁয়া মনিও।

অন্যদের মতো তাদেরকে উদ্ধার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান উদ্ধারকারীরা। এত বড় দুর্ঘটনার ধকল সইতে পারেনি তার ছোট শরীর, হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক জানান বেঁচে নেই ছোঁয়া মনি।

এদিকে তার বাবা সোহেল ও মা  নাজমার অবস্থা বেশি গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঠিয়ে দেয়া হয়।আর ছোঁয়া মনির নিথর দেহ পড়ে আছে আরেক হাসপাতালের মর্গে।

সোহেল ও নাজমাকে নিয়ে যখন ঢাকায় যাওয়া হচ্ছিল তখন ভাগ্নির মরদেহ বুঝে নিতে হাসপাতালের মর্গ আর পুলিশের কাছে দৌড়াদৌড়ি করছেন মামা জামাল মিয়া। ময়নাতদন্ত ছাড়া ছোঁয়া মনির মরদেহটি বাড়ি নিয়ে যেতে চান জামাল।

মঙ্গলবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। নিহত ছোঁয়ার মামা জামাল মিয়া বলেন, ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পেয়ে এখানে ছুটে আসি। হাসপাতালের ছোঁয়াকে এভাবে দেখব কল্পনাও করিনি। সোহার বাবা-মাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সোহার লাশ নিতে আবেদন করেছি আমি।

আহত সোহেল মিয়ার পারিবারিক সুত্রে জানায়, সোহেল কিছুদিন পূর্বে চট্রগ্রামের কলসি দিঘীর পাড়ের একটি গার্মেন্টসে কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর হিসেবে যোগদান করেন। সম্প্রতি কয়েকদিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন সোহেল। ছুটি শেষ করে তার কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য সোমবার শায়েস্তাগঞ্জ রেল জংশন থেকে পরিবার নিয়ে ট্রেনে উঠেন। ব্রাক্ষণবাড়িয়ার কসবায় থানার মন্দবাগ এলাকায় চট্রগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখী তুর্ণা নিশীথার সঙ্গে সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

প্রসঙ্গত, সোমবার ( ১১ নভেম্বর) ভোর পৌনে ৪টার দিকে কসবা উপজেলার মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনের ক্রসিংয়ে আন্ত:নগর উদয়ন ও তূর্ণা নিশীথার মধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ১৭ জন নিহত ও আহত হয় প্রায় শতাধিক যাত্রী।

Loading...