‘ঘন কুয়াশার কারণে লালবাতি দেখতে পাননি চালক’

৬:৫৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২, ২০১৯ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ব্রাক্ষণবাড়িয়ার কসবায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসের চালককসহ তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনা তদন্তে রেলের পক্ষ থেকে মোট চারটি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার রাত পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মন্দবাগ রেল ক্রসিংয়ে উদয়ন এক্সপ্রেস ও আন্তঃনগর তূর্ণা নিশীথার মধ্যে সংঘর্ষ হয় বলে আখাউড়া রেলওয়ে পুলিশের ওসি শ্যামলকান্তি দাশ জানান।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলেই ১০ জনের মৃত্যু হয় এবং পরে হাসপাতালে আরো ছয়জন মারা যায়। অর্ধশতাধিক আহত কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ভোরেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান খান। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও অনুসন্ধান করে প্রাথমিকভাবে ঘন কুয়াশার কারণেই চালক সিগন্যাল দেখতে পাননি বলে জানতে পেরেছেন তিনি। আর তূর্ণা নিশীথার চালক তাহের উদ্দিন রেলওয়ের কর্মকর্তাদের কাছে সিগন্যাল দেখতে না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

শামছুজ্জামান বলেন, ‘তূর্ণা নিশীথা ট্রেনটি ৬০-৬৫ কিলোমিটার গতিতে চলছিল। ঘন কুয়াশার কারণে চালক লাল সংকেত সিগন্যাল দেখতে পাননি। তূর্ণা নিশীথার চালক যখন সংকেত দেখতে পান, তখন ইর্মাজেন্সি ব্রেক করেন। ট্রেনের গতিবেগ ২০ কিলোমিটারে নেমে আসলেও পুরো গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। আমরা স্পিড রেকর্ডারও পরীক্ষা করে দেখেছি। ঢাকা থেকে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার পরও ঘন কুয়াশা দেখেছি আমি। তাই আমরা মনে করি, ঘন কুয়াশার কারণেই মূলত দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।’

তিনি বলেন, উদয়ন ট্রেনটি মেইন লাইন থেকে লুক লুপ লাইনে যাচ্ছিল। এমন অবস্থায় তূর্ণা এক্সপ্রেস সিগন্যাল অতিক্রম করে উদয়নের পেছনের বগিগুলোকে হিট করে।

তবে মন্দনাগ রেল স্টেশনের মাস্টার জাকের হোসেন চৌধুরী বলছেন, ‘আউটার ও হোম দু’জায়গাতেই তূর্ণাকে দাঁড়ানোর জন্য সিগন্যাল দেয়া হয়েছিল।’

রেলের মহাপরিচালক যে সিগন্যাল দেখতে না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন, সেটি হোম সিগন্যাল। স্টেশন মাস্টারের কথা অনুযায়ী চালক দুটা সিগন্যালই মিস করেছেন। যখন হোম সিগন্যাল দেখেছেন, ইঞ্জিনের গতি ৬০-৬৫ কিলোমিটার থেকে কমিয়ে ২০ কিলোমিটারে নামিয়ে আসেন চালক।

এদিকে তূর্ণা নিশীথা তার চালকের সিগন্যাল অমান্য করার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বলেন, এটি তদন্ত করে বলা যাবে। তবে, তার ধারণা তূর্ণা নিশীথা তার চালকের সিগন্যাল অমান্য করার কারণেই এই দুর্ঘটনা। এজন্য তূর্ণা নিশীথার চালক ও সহকারী চালককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

Loading...