‘খালেদা জিয়ার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে’- ফখরুল

৮:৪৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২, ২০১৯ জাতীয়
fok

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো পঙ্গু হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে অভিযোগ করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়া এখন এত অসুস্থ যে তিনি নিজে হাতে ধরে কিছুই খেতে পারেন না। তাকে সাহায্য করে খাইয়ে দিতে হয়। তিনি হুইলচেয়ার ছাড়া চলতে পারেন না। এমনকি বিছানা থেকেও দু’জন সাহায্য করে তাকে উপরে তুলতে হয়।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে যে রিপোর্ট তারা দিয়েছেন তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। আমরা এখান থেকে স্পষ্টভাবে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সঠিক তথ্য প্রকাশ করার দাবি জানাচ্ছি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ সরকার জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন, সম্পূর্ণ ম্যান্ডেটবিহীন একটা সরকার। এ সরকারকে ক্ষমতায় রাখার মানে হচ্ছে জনগণের সর্বনাশ করা। তিনি বলেন, আজকে প্রত্যেকটি পণ্যের দাম জনগণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। মানুষ চাল কিনে খেতে পারছে না অথচ গ্রামে যান কৃষকরা বলবে আমরা ধানের দাম পাচ্ছিনা ৩০০ টাকা ৪০০ টাকা। অথচ চাল কিন্তু ৫০ টাকা ৬০ টাকার নিচে নেই।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি মানে জনগণের মুক্তি, গণতন্ত্রের মুক্তি। তাই আজকে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা বারবার বলেছি, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতে হবে। সমস্ত দেশ প্রেমিক শক্তিগুলোকে একত্রিত করে আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে বাধ্য করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঢাকঢোল পিটিয়ে ভারত সফরে গেলেন। আমরা আশা করেছিলাম সেখানে আমাদের তিস্তাসহ অন্যান্য চুক্তি সম্পন্ন হবে এবং আমরা আমাদের ন্যায্য হিস্যা পাব। কিন্তু তিস্তা নদীর এক ফোঁটা পানি পাওয়ারও কোনো চুক্তি হয়নি। অথচ অন্যদিকে আমার ফেনী নদীর পানি তাদেরকে দেয়ার জন্য চুক্তি করে আসা হয়েছে। আজকে গ্যাস আমদানি করে আগরতলাতে পাঠানো হচ্ছে অর্থাৎ আমদানি করে রপ্তানি করা হচ্ছে। জনগণ এত বোকা নয় যে জনগণ বুঝতে পারে না।

বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, আজকে বঙ্গোপসাগরে রাডার লাগানো হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য ভারত রাডার বসাবে এবং তারা পর্যবেক্ষণ করবে। আমরা স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছি এবং আবারো চাই। এই চুক্তিগুলোর পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা জনগণের সামনে সরকারকে তুলে ধরতে হবে। আমার দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা হচ্ছে কিনা আমরা এবিষয়ে সরকারের কাছে আমরা স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাই।

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান, আব্দুল কুদ্দুস, বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, সাধারণ সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

Loading...