মির্জাপুরে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ করার অভিযোগ!

৮:০৫ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৯ ঢাকা
Tangail

মো. সানোয়ার হোসেন,মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের কুরনী জালাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে অর্থের বিনিময়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কৃতকার্য দেখানোর অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুরনী জালাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের আগামী বছরের অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি বাছাই পরীক্ষায় ৭৩ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য দেখানো হয়। কিন্তু গত (৪ নভেম্বর) বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের আলোচনা সভার মাধ্যমে অতিরিক্ত আরো ৩৫ শিক্ষার্থীকে কৃতকার্য দেখানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই অতিরিক্ত ৩৫ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি হারে এক থেকে দুই হাজার টাকা করে নেয়ার দায়িত্ব নেন বিদ্যালয়টির সহকারি প্রধান শিক্ষিকা লুচি আক্তার।

বিদ্যালয়টির ছাত্র রাকিব সিকদার ও সজিব খান বলেন, ‘গত (৪ নভেম্বর) বিকেলে বিদ্যালয়ের মাঠে আমরা বন্ধুরা সবাই মিলে ফুটবল খেলতে ছিলাম, আমাদের ডেকে নিয়ে বিদ্যালয়ের ম্যাডাম লুচি আক্তার বলেন আগামীকালের মধ্যে তোমরা দুই হাজার টাকা দিলে তোমরা কৃতকার্যদের তালিকায় থাকবে। এছাড়াও ৩৫ জনের নামের একটি তালিকা দিয়ে বলেন ওদের সবার সাথে যোগাযোগ করে ২ হাজার করে টাকা দিতে বলবা। পরে আমরাসহ শাকিব খান, নাহিয়ান, স্বর্ণা, জান্নাত, সাথী, রোজিনাসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ম্যাডামের কাছে টাকা জমা দেই।’

শিক্ষার্থী আরও অভিযোগ করে বলেন, কয়েকজন মেয়ে সব পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেও তাদেরকে টাকার বিনিময়ে পাস করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই খাতা পূর্ণমূল্যায়ন করার দাবি জানান ক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা।

অভিযুক্ত শিক্ষিকা লুচি আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে সাবেক চেয়ারম্যানের মেয়ে বলে পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারবোনা। কাল আপনার সাথে দেখা করবো।’

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আবু তাহেরের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে, কুরনী জালাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ড. শরীফ উদ্দিন সর্বশেষ আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, আলোচনা সভায় অকৃতকার্য কোন শিক্ষার্থীকে কৃতকার্য দেখানোর সিদ্ধান্ত হয়নি এবং সরকারি বিধিমালার বাইরে যাওয়ার প্রশ্নই উঠেনা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুন অর-রশিদ বলেন, অকৃতকার্যদের কৃতকার্য দেখানোর কোন সুযোগ নেই। কেউ যদি টাকার বিনিময়ে এ কাজ করে থাকে তবে সেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নিবার্হী অফিসার মো. আবদুল মালেক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খুব দ্রুত এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Loading...