• আজ ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বদলে যাচ্ছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

২:১১ অপরাহ্ণ | বুধবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৯ ফিচার

রাজু আহমেদ, ষ্টাফ রিপোর্টার- শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিজস্ব মোট জায়গার মাত্র ৪০ শতাংশ জায়গা ব্যবহৃত হলেও ৬০ ভাগ জায়গাই রয়েছে অব্যবহৃত অবস্থায়। এনিয়ে নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী বিমান চলাচল কতৃপক্ষের নিজস্ব জায়গাতেই তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে এবং বর্তমানে যে ভিভিআইপি টার্মিনালটি রয়েছে সেটি ভেঙে ফেলা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এদিকে এক সমীক্ষায় বলছে, পরিকল্পনা মাফিক নতুন করে নতুন সুযোগ-সুবিধাসহ নতুন ভিভিআইপি থার্ড টার্মিনাল নির্মিত হলে বিমানবন্দরটি দিয়ে বর্তমানে বছরে ৮০ লাখ যাত্রী চলাচলের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে ২ কোটিতে পৌঁছবে।

সম্প্রতি গত বুধবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্পসারণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হলে পরের দিন বৃহস্পতিবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মান অনেক বাড়ার পাশাপাশি থার্ড টার্মিনাল নির্মিত হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী সেবার চিত্র পুরোটাই বদলে যাবে। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক যাত্রীদের মালপত্র পৌঁছে দিতে কনভেয়র বেল্ট বাড়িয়ে দ্বিগুন করা হবে।

যাত্রীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার হয়রানির অবসান ঘটাতে ইমিগ্রেশন কাউন্টার ও চেকিং কাউন্টার তিনগুণ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। অপরদিকে আমদানি, রপ্তানি ও যাত্রী টার্মিনালের আয়তন বাড়িয়ে সুপরিসর করে যাত্রীসেবার প্রতিটি বিষয়েই যত্নের সাথে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনলে যাত্রী হয়রানী পুরোপুরিভাবে বিলুপ্ত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগেই থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন করা হবে।’

বর্তমানে দেশে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়াও চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরসহ মোট তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব বিমানবন্দরকে ঘিরে একটি হাব তৈরি করার জন্য বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নামে নতুন একটি বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে। জাপানি একটি সংস্থা বিমানবন্দর নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করার পর বর্তমানে বিমানবন্দরটির জন্যেবউপযুক্ত জায়গা খোঁজার কাজ চলছে।

এদিকে, পাকিস্তান আমলে তেজগাঁও বিমানবন্দরটিই ছিল দেশের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। স্বাধীনতার পর ঢাকার কুর্মিটোলায় জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নামে নতুন একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মিত হয়ে ১৯৮০ সালে উদ্বোধনের সময় এই বিমানবন্দরের একটিমাত্রই টার্মিনাল ছিল। পরে আরও একটি টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। উদ্বোধনের সময় থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বিমানবন্দরটির নাম জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থাকলেও পরে সে নাম পরিবর্তন করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নামকরণ করা হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের জন্য অনুমোদন দেয় একনেক। ওই সময় নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১৪ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু সময়মতো প্রকল্পের কাজ শুরু না করায় প্রকল্পের কিছু বিষয় আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এসব নিষ্পত্তি করে গত বুধবার আরও প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ২০ হাজার কোটি টাকা। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রকল্পটি শুরু করার অনুমোদন দিলেও এই প্রকল্পটিকে একনেকে অনুমোদনের জন্যে অপেক্ষা করতে হবে। প্রকল্পের কিছু বিষয় পরিবর্তনের কারণে ফের একনেকে যেতে হবে।

Loading...