সংবাদ শিরোনাম
দেশে করোনা কেড়ে নিল আরো ৩৮ প্রাণ, নতুন আক্রান্ত ৪ হাজার ১৯ | মিয়ানমারে খনি ধসে নিহত অন্তত ১১৩, নিখোঁজ অনেকে | জামালপুরের এমপিকন্যা এক মাসের ছুটি নিয়ে ১১ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায়! | বাংলাদেশে আবিষ্কার করোনার টিকা ৬ মাসের মধ্যে বাজারে আসবে | সিদ্ধান্তে অটল বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা, বেনাপোলে আজও ভারতীয় পণ্য আমদানি বন্ধ | করোনায় বগুড়ার আ.লীগ নেতার মৃত্যু | ‘এটাই চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আসল রূপ’, লাদাখ প্রসঙ্গে বললেন ট্রাম্প | তানোরে মারামারি মামলায় ৪ আসামি গ্রেফতার | সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি কিছুটা কমলেও দুর্ভোগ কমেনি | ভারতকে চাপে ফেলতে পাকিস্তানের সীমান্তও ব্যবহার করছে চীন |
  • আজ ১৮ই আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘শক্ত করে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরেও মেয়েটাকে বাঁচাতে পারলাম না’

৩:৪০ অপরাহ্ণ | বুধবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৯ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ‘মেয়েটা আমার কোলেই ছিল। হঠাৎ যখন জোরে শব্দ পাই, তখন মেয়েটাকে আরও জোরে জড়িয়ে ধরি। কিন্তু মেয়েটাকে বাঁচাতে পারলাম না।’ কথাগুলো বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত নাজমা আক্তার (৩০)।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে তার দুই বছর দুই মাস বয়সী মেয়ে আদীবা আক্তার সোহার প্রাণ। এই দুর্ঘটনায় তিনি নিজেও আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল)। ট্রেনে থাকা তার স্বামী মাহিন আহমেদ সোহেল (৩৫) ও চার বছর বয়সী ছেলে নাফিজুল হক নাফিজও একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আহত হয়েছেন নাজমার মা’ও।

সব হারিয়ে পঙ্গু হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় মহিলা বেডে শুয়ে অঝরে কেঁদেই যাচ্ছেন। নাজমা আক্তার জানান, ট্রেনে ওঠার আগে আমার মেয়ে কী হাসি-খুশি ছিল। অনেক শান্ত ছিল আমার মেয়েটি, কিছু পেলেই অনেক খুশি হতো। শান্ত স্বভাবের বলে সবাই তাকে আদর করতো। আর এখন সে নাই।

“স্বামী-স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়ের সংসার ছিল তার। চট্টগ্রাম ইয়ংওয়ান গার্মেন্টে চাকরি করতেন তিনি। স্বামী মহিন আহমেদ সোহেল আরেকটি গার্মেন্টে চাকরি করতেন। পাশেই একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের সবাই থাকতেন। সঙ্গে নাজমার মা রেনু আক্তার (৪৫) থাকতেন। তাদের অনুপস্থিতিতে দুই সন্তানকে দেখাশোনা করতেন তিনি।”

নাজমা বলেন, দেশের বাড়ি হবিগঞ্জ থেকে কর্মস্থল চট্টগ্রামে ফেরার পথে তার দুই ছেলে-মেয়ে, স্বামী ও তার মা রেনু আক্তার রাত সাড়ে ১২টায় ট্রেনে উঠেন। রাত ৩টার দিকে হঠাৎ বিকট আওয়াজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চারদিকে অন্ধকার হয়ে আসে। মুহূর্তের মধ্যে ট্রেনের বগি ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। সেসময়ও মেয়ে আদিবাকে বুকের মধ্যে শক্ত করে জড়িয়ে রাখি। কিছুক্ষণ পর দেখি তার শরীর অর্ধেক চাপা পড়ে গেছে। এ সময় বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকি। পরে শুনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি হাসপাতালে মারা যায় সোহা।

তিনি আর বলেন, আমার পা নাই, আমার স্বামীরও পা নাই। আমার মায়েরও পা নাই। আমরা কিভাবে সামনের দিনগুলি চলব, জানি না।