• আজ ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

৩০ বছর পর দেখা দিলো ‘ইঁদুর-হরিণ’

১২:১৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯ চিত্র বিচিত্র

চিত্র বিচিত্র ডেস্ক- এবার বিরল প্রজাতির ছোট হরিণের মতো প্রাণীর দেখা মিললো ভিয়েতনামের উত্তর-পশ্চিম দিকের বনাঞ্চলে। এটি দেখতে অনেকটা হরিণের মতো হলেও ঠিক হরিণ নয়। আবার খরগোশের আকারের প্রাণীটি দেখতে কিছুটা ইঁদুরের মতোও। ছোট্ট ও অদ্ভুত প্রাণীটিকে তাই ডাকা হয় ‘ইঁদুর-হরিণ’।

বিরল এই প্রাণীটি শেষবার ১৯৯০ সালে দেখা গিয়েছিল। এরপর একে একে ৩০ বছর পার হয়েছে। কারও চোখে পড়েনি। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছিলেন, আরও অনেক প্রাণীর মতো পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে এরা। কিন্তু প্রায় তিন দশক পর চলতি সপ্তাহেই তাদের দেখা মিলেছে ভিয়েতনামের উত্তর-পশ্চিম দিকের বনাঞ্চলে।

‘নেচার ইকোলজি অ্যান্ড ইভলিউশন’-এ সোমবার এই প্রাণীটিকে নিয়ে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি রুপোলি পিঠের শেভ্রোটাইন বা মাউস ডিয়ার (ইঁদুর-হরিণ)।

হরিণটি কিছুটা ইঁদুরের মতো দেখতে বলে এমন নাম। মাউস ডিয়ার প্রথম দেখা মেলে ভিয়েতনামেই। ১৯১০ সালে প্রথমবার হো চি মিন সিটি থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দূরে নেহ ট্র্যাংয়ের কাছে দেখা মেলে। কিন্তু ১৯৯০ সালের পর এর আর দেখা মেলেনি। চোরা শিকারীদের কারণেই প্রাণীটি বিলুপ্তির পথে চলে যায় বলে মনে করা হয়।

তবে ভিয়েতনামের দুই প্রাণী বিজ্ঞানী এই মাউস ডিয়ারের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা জঙ্গলের কিছু অধিবাসীদের কাছে জানতেও পারেন এই হরিণের অস্তিত্ব। তারা নাকি এদের দেখেছেন বলে জানান, তবে তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রাণীটির অস্তিত্ব প্রমাণ করতে ওই এলাকায় ৩০টি মোশান-অ্যাক্টিভ ক্যামেরা বাসানো হয়। তারতেই ধরা পড়ছে এই মাউস ডিয়ারের ছবি।

এদিকে প্রকৃতি সংরক্ষণে কাজ করে এরকম আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল উইল্ডলাইফ কনজারভেশন (জিডব্লিউসি) এসব প্রাণীর একটি তালিকা তৈরি করেছে। এদের মধ্যে কমপক্ষে ২৫টি প্রাণীকে বিপন্ন ঘোষণা করা হয়েছে। তালিকায় ক্ষুদ্র ইঁদুর-হরিণের নামটিও রয়েছে।

প্রাণীটিকে এক সময় বেশি বেশি ভিয়েতনামেই পাওয়া যেত। তাই এটাকে ভিয়েতনামি ইঁদুর-হরিণ বলা হয়। সোনালি পিঠ ও সমান পদতলবিশিষ্ট প্রাণীগুলোর বৈজ্ঞানিক নাম ‘ট্রাগুলুস ভারসিকালার’।

Loading...