৫ কেজি চালের দামে ১ কেজি পেঁয়াজ!

৮:৩৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ
cal

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ কয়েক সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ২০০ টাকার ওপরে উঠে গেছে। বাজারে এক কেজি ভালো মানের চালের মূল্য ৪৫ টাকা। এখন ৫ কেজি চালের দামের সমান দামে কিনতে হচ্ছে এক কেজি পেঁয়াজ।

যশোরের অভয়নগরে এই দামেই বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। পেঁয়াজ কিনতে আসা বুইকরা গ্রামের তৌফিক ইসলাম বলেন, একদিন আগেই ১৫০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনেছি, আজ হঠাৎ ২২০ টাকা হওয়ায় আমার পেঁয়াজ কেনা সম্ভব হয়নি।

নওয়াপাড়া বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ফরিদ সরদার জানান, পাইকারি মোকামে পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায়, পেঁয়াজ কেনা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পেঁয়াজের ঝাঁজে অস্থির হয়ে উঠেছে ক্রেতারা। একদিনের ব্যবধানে প্রতিকেজিতে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গলবার মির্জাপুর বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা দরে। একই বাজরে প্রতিকেজি চাল বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা দরে। এ অবস্থায় ১ কেজি পেঁয়াজের দামে ৫ কেজি চাল পাওয়া যাচ্ছে। দিন দিন পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেলেও নজরদারি নেই স্থানীয় প্রশাসনের।

গত দুই মাস যাবৎ মির্জাপুর বাজারে পেঁয়াজের দাম লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মির্জাপুর বাজারে ইচ্ছেমতো পেঁয়াজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সে জন্য পেঁয়াজের মূল্য কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তা ছাড়া মির্জাপুর বাজারে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের সদস্যরা দেওহাটা ও জামুর্কী বাজারের পেয়াজের মহাজনদের মির্জাপুর বাজারে আসতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত সোমবার মির্জাপুর বাজারে পেঁয়াজের মূল্য ছিল প্রতিকেজি ১৩০ টাকা। একরাতের ব্যবধানে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে মঙ্গলবার তা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা দরে। পেঁয়াজের দামের এই ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন আয়ের লোকজন চালের দামের সাথে তুলনা করছেন। তারা বলছেন ১ কেজি পেঁয়াজের দামে এখন ৫ কেজি চাল পাওয়া যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী ক্রেতারা বলছেন, প্রশাসনের নজরদারি থাকলে বাজরে সিন্ডিকেট কোনো সুবিধা করতে পারবে না। তারা পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এ দিকে পেঁয়াজের দাম অসহনীয় পর্যায়ে বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্যরা। একই সঙ্গে যেসব অসাধু ব্যবসায়ী পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর সঙ্গে জড়িত তাদের ক্রসফায়ারে দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে বিরোধীদল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, দু’দিন আগে বাণিজ্যমন্ত্রীর পক্ষে শিল্পমন্ত্রী বললেন পেঁয়াজের বাজার সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মন্ত্রী একথা বলার পরদিনই পেঁয়াজের কেজি দেড়শ টাকা হয়ে গেলো। আজ (বৃহস্পতিবার) দুইশ টাকা কেজি। নিউজে দেখলাম পেঁয়াজের দাম না পাওয়ায় ভারতের কৃষকরা কাঁদছে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের এত ভালো সর্ম্পক। প্রধানমন্ত্রী যদি নিজে ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেন তাহলে হয়তো এ সমস্যাটা থাকতো না।

চুন্নু বলেন, বাজারে প্রচুর পেঁয়াজ রয়েছে। তারপরেও দাম বাড়ছে। এর বিরুদ্ধে একটি অভিযান চালানো দরকার। তাহলে সমস্যাটা আর থাকবে না। সন্ত্রাসীরা ক্রসফায়ারে মারা যায়। যারা পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছে, তাদের একজন মারা যাক না। আমি মনে করি পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি সরকারের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। এটা দেখা দরকার। জরুরিভিত্তিতে এর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

Loading...