নবীগঞ্জে মাকে বাড়ি আনতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন হাফেজ মোজাক্কির

৬:২৮ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, নভেম্বর ১৬, ২০১৯ সিলেট
habigonj

মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ বাবা মোবাশ্বির হোসেন সৌদিআরব প্রবাসী। মা ঝরণা বেগম গৃহিনী। সকালে মা ঝরনা বেগম ব্যক্তিগত কাজে নবীগঞ্জ শহরে আসেন, বিকেলে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে সিএনজি যোগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী আইনগাঁও সিএনজি স্ট্যান্ডে পৌঁছান। সেখান থেকে মা ঝরণা বেগম পুত্র মোজাক্কির হোসেনকে মোবাইল ফোনে জানান আইনগাঁও থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। মায়ের কথা মতো একটি সিএনজি নিয়ে আইনগাঁও যান পুত্র মুজাক্কির। সেখান থেকে পুনরায় অপর একটি সিএনজি যোগে নিজ বাড়ি গজনাইপুরের ফিরছিলেন মা-পুত্র। কিন্তু বিধিবাম মা বাড়ি ফিরলেও তাঁর প্রিয় সন্তান হাফেজ মোজাক্কির হোসেন ফিরেছেন লাশ হয়ে। এঘটনায় হতভম্ব পুরো দিনারপুর পরগনাবাসী।

২২ বছরের টগবগে যুবক হাফেজ মুজাক্কির এভাবে অকালে সবাইকে ছেড়ে চলে যাবেন কেউই ভাবতে পারেনি। নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের গজনাইপুর গ্রামের সৌদিআরব প্রবাসী মোবাশ্বির হোসেনের পুত্র মোজাক্কির হোসেন প্রায় দুই বছর পূর্বে স্থানীয় গজনাইপুর জামেয়া ইসলামীয়া ফুরকানিয়া মাদ্রাসা থেকে কোরআনে হাফেজ হিসেবে সনদপত্র গ্রহণ করেন।  কোরআনে হাফেজ হলেও তিনি পেশা হিসেবে বেচে নেন ব্যবসাকে। জনতার বাজারে খুলেন একটি লাইব্রেরী দোকান। ব্যবসাও চলছিল ভালোই। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার ও তার পরিবারের।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে মাকে নিয়ে সিএনজি যোগে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার জনতার বাজার নামকস্থানে দ্রুতগতির বেপরোয়া অজ্ঞাত বাসের চাপায় দুমড়ে-মুছড়ে যায় তাদের বহনকারী সিএনজিটি। এতে গুরুতর আহত হন হাফেজ মোজাক্কির হোসেন (২২)। দ্রুত তাকে নেয়া হয় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে। চিকিৎসাও চলছিল দ্রুতগতিতে। অতিরিক্ত রক্তকরণের কারণে প্রয়োজন দেখা দেয় রক্তের। রক্তের জন্য আত্মীয়-স্বজন বন্ধুবান্ধব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন অবিরত। কিন্তু শেষ রক্ষা হলনা মুজাক্কিরের। অবশেষে রাত ৮টার দিকে হাসপাতালের বেডে চিরনিদ্রায় চলে যান হাফেজ মোজাক্কির। এদিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দিনারপুরে নেমে আসে শোকের ছায়া। তার এই অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই। রাত সাড়ে ৯ টায় মোজাক্কির এর মরদেহ নিয়ে লাশবাহী এম্বুলেন্স বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বৃদারক দৃশ্যের অবতারন হয়। কান্নায় বার বার মুর্চা যাচ্ছিলেন মা ঝরনা বেগমসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন। আজ শনিবার সকাল ১১টায় দক্ষিণ গজনাইপুর জামে-মসজিদ মাঠ প্রাঙ্গণে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

নিহত হাফেজ মোজাক্কির তার ব্যবহৃত ব্যাক্তিগত ফেসবুক একাউন্টের পরিচয় বক্সে সম্প্রতি একটি পোস্ট দেয়। এতে লেখা ছিল- ‘প্রিয় বন্ধুরা কখনো যদি জানেন মোজাক্কির নামের মানুষটি মারা গেছে তাহলে মাফ করে দিয়েন!।’ সে মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার বন্ধুরা এই পোষ্টের স্ক্রীণশর্টটি পোষ্ট করেছেন।

Loading...