• আজ ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পেঁয়াজের বিকল্প নিয়ে সুখবর দিলেন দেশের বিজ্ঞানীরা

১২:৩৭ অপরাহ্ণ | শনিবার, নভেম্বর ১৬, ২০১৯ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- দ্বিশতক হাঁকিয়েও অপরাজিত রয়েছে পেঁয়াজ। গতকাল শুক্রবার ঢাকার বাজারে প্রায় সব ধরনের পেঁয়াজ কেজিতে ২০০ টাকার ওপর বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের দেশি পেঁয়াজের দাম ২৪০ টাকা ছাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশবাসীর জন্য সুখবর নিয়ে এলেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। দেশের মাটিতে পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে ‘চিভ’ নামক এক মসলা চাষে সফল হয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মসলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চিভ চাষে এই সাফল্য পেয়েছেন। দীর্ঘদিন চিভ নিয়ে গবেষণা শেষে উত্তর চীন, সাইবেরিয়া ও মঙ্গোলিয়া অঞ্চলের মসলা জাতীয় বহুবর্ষজীবী ফসল চাষে এ সাফল্য পেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির আঞ্চলিক মশলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. নূর আলম চৌধুরী। এ কাজে তার সহযোগী ছিলেন ড. মোস্তাক আহমেদ, ড. আলাউদ্দিন খান ও মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।

তারা উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন চিভের ওপর গবেষণা করেন। এতে তারা সফলও হয়েছেন। উদ্ভাবন করেছেন বছর জুড়েই চাষ ও ফলনের উপযোগী বারি চিভ-এ নামের একটি জাত।

বারি সূত্রে জানা গেছে, চিভের চাষ সারা বছরই করা যায়। চিভ-এ প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-১, ভিটামিন বি-২, নায়াসিন, ক্যারোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও খনিজ পদার্থ বিদ্যামান। রয়েছে চিভ এ ক্যানসার প্রতিরোধী গুণাগুণও। সালাত তৈরিসহ বিভিন্ন চাইনিজ ডিসে ব্যবহার করা যায়। চিভের পাতা, কন্দ ও অপরিপক্ক ফুল সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। চিভ হজমেও সাহায্য করে।

চিভ (Allium tuberosum) একটি বহুবর্ষজীবী মসলা ফসল। হইা অ্যামারাইলিডেসি (Amaryllidaceae) পরিবারের অর্ন্তভুক্ত। এর পাতা লিনিয়ার আকৃতির, ফ্লাট, পাতার কিনারা মসৃণ, বাল্ব লম্বা আকৃতির। ফুলের রং সাদা ও বেগুনি বর্ণের মিশেলে।

চিভের উৎপত্তিস্থল সাইবেরিয়ান, মঙ্গোলিয়ান, নর্থ চাইনা অঞ্চল। বাংলাদেশে সিলেট অঞ্চলে তুলামূলকভাবে চাষাবাদ বেশি হয়ে থাকে। এছাড়া পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী (দুর্গাপুর ও তাহেরপুর) মাগুরা, বগুড়া, লালমনিরহাট ইত্যাদি অঞ্চলে ব্যাপকভাবে চাষের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশে সারা বছর চিভ চাষ করা সম্ভব। এ জাতের গাছের উচ্চতা ৩০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার, পাতার দৈর্ঘ্য ২৩ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার, বাল্ব লম্বাকৃতির, বাল্বের দৈর্ঘ্য ১.০ থেকে ১.৪৫ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। সেচ ও পানি নিস্কাশনের সুবিধাযুক্ত ও জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ বেলে দোআঁশ মাটি চিভ চাষের জন্য উপযোগী। ১৩-২৫ ডিগ্রি সে. তাপমাত্রা চিভ চাষের জন্য উপযোগী। চারা লাগানো থেকে ফসল উত্তোলন পর্যন্ত ৬৫ থেকে ৭০ দিন সময় লাগে।

জাতটি পোকামাকড় ও রোগ সহনশীল। এ ফসলে রোগের আক্রমণ খুব কম হয়। তবে জমিতে আর্দ্রতা বেশি থাকলে ছত্রাকের আক্রমণ হয়। এছাড়া পার্পল লিফ ব্লচ (Purple leaf blotch) নামক রোগের আক্রমণ হতে পারে। আন্তঃফসল হিসেবে চাষ করার মাধ্যমে কলার পানামা রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

চারা লাগানোর ৬৫-৭০ দিন পর থেকে ফসল সংগ্রহ করা যায়। গাছের গোড়া থেকে ২-৩ ইঞ্চি উপরে পাতা কেটে অথবা পুরো গাছ উঠিয়ে ফসল সংগ্রহ করা যায়। বছরে ৫-৬ বার ফসল সংগ্রহ করা যায়। পাতা ও গাছ সহ প্রতি হেক্টরে ১০-১২ টন ফলন পাওয়া যায়।

বারির উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নূরে আলম চৌধুরী জানান, বিবিএস (২০১৭) এর তথ্য মতে আমাদের দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ১৭.৩৫ লাখ মেট্রিক টন, চাহিদা প্রায় ২২ লাখ মেট্রিক টন। এখনো প্রায় ৪.৬৫ লাখ মেট্রিক টন ঘাটতি রয়েছে। চিভ পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব এবং সারা বছর চাষ করা যায়। এর প্রসার পেঁয়াজের ঘাটতি অনেকটা মেটাতে উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবনের উদ্দেশ্যে মসলা গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীগণ চেষ্টা করে আসছে। বেশ কয়েকটি লাইনের উপর গবেষণা চালিয়ে বারি চিভ-১ নামে একটি উচ্চ ফলন শীল জাত উদ্ভাবন করেছে, যা সারা বছর চাষ করা সম্ভব। জাতটি ২০১৭ সালে অবমুক্ত হয়।

Loading...