সংবাদ শিরোনাম
‘বয়ফ্রেন্ড’ সৈকতের সঙ্গে ওই ভবনে প্রবেশ করে রুম্পা: ডিবি | পিরোজপুরে বাসচাপায় অটোচালকসহ নিহত ৩ | পেঁয়াজের দাম বাড়ায় ভারতে খাদ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা | ফেসবুকে দুই কলেজছাত্রীর ‘অনৈতিক’ ফাঁদ, নোয়াখালীতে গ্রেফতার ৩ | একটি পদ্মার ইলিশ কিনলেই এক কেজি পেঁয়াজ ফ্রি! | দিল্লিতে কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ৩৫ | সালমান-ক্যাটরিনা এখন ঢাকায়, টিকিটের মূল্য শুনে বিস্মিত ম্যানেজার! | রোহিঙ্গা শিবিরে দুই  ডাকাত দলের গোলাগুলিতে নিহত ১ | গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কাউন্সিলের অভিযোগ এনে সংবাদ সন্মেলন করলেন রাজবাড়ী ১ আসনের এমপি | জাবির ভিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী |
  • আজ ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

১ মণ ধান বেচেও ২ কেজি পেঁয়াজ কিনতে পারছেন না কৃষক!

৩:০৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, নভেম্বর ১৬, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে পেঁয়াজের খুচরা বাজারে। তদারকি না থাকায় দিনের আলো ফুটতেই যে যেভাবে পারছে দাম বাড়িয়ে ভোক্তার পকেট কাটছে। দামের অপ্রতিরোধ্য যাত্রায় খুচরা বাজারে আজ শনিবারও বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। আজ প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৭০ টাকায়। যা একদিন আগে ছিল ২৫০ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে গ্রামাঞ্চলের নিন্ম আয়ের মানুষজনেরা পড়েছেন বেশি বিপাকে।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে, বর্তমানে এক মণ ধান বিক্রি করেও কৃষক দুই কেজি পেঁয়াজ নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারছেন না। এভাবে দাম বাড়লে হয়তো আর রান্নায় পেঁয়াজ ব্যবহার করতে পারবেন না তারা।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সোনাইডাংগা গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম জানান, চলতি আমন মৌসুমের আগাম জাতের ধান কাটার পর তিনি এক মণ ধান বিক্রি করেন ৪৬০ টাকায়। বাড়িতে সামাজিক অনুষ্ঠানে মেহমানদের আপ্যায়নের জন্য কাঁচামাল বাজার করতে এসে পড়েন বিপাকে। এক মণ ধান বিক্রির ৪৬০ টাকায় দুই কেজি পেঁয়াজ দিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। ২৪০ টাকা কেজি হিসেবে আরও ২০ টাকা পকেট থেকে দিতে হয়েছে। বাজারে এসেই পকেট ফাঁকা। ধার দেনা করে বাজার করতে হয়েছে।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, বৃষ্টির অভাবে সেচের মাধ্যমে ক্ষেতে পানি, হাজার টাকা বস্তা সার ও ২৫০ টাকা ডেইলি শ্রমিক নিয়ে ধান চাষ করে এখন আধা মণ (২০ কেজি) ধান বিক্রি করেও মিলে না এক কেজি পেঁয়াজ।

এদিকে শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) চুয়াডাঙ্গার কয়েকটি হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষদের বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম শুনে ক্রেতারা বাজার থেকে ফিরে যাচ্ছেন। আবার কেউ অল্প করে কিনছেন পেঁয়াজ।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার বাজারগুলোতে বর্তমানে প্রকারভেদে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২২০-২৬০ টাকায়। আর হাটগুলোতে মণপ্রতি আমন ধান বিক্রি হচ্ছে ৪৮০-৫৪০ টাকায়। ফলে সেখানেও এক মণ ধানের দামে ২ কেজি পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না।

পেঁয়াজ বিক্রেতা কামাল হোসেন বলেন, মোকামে পেঁয়াজের দাম প্রতিদিন বাড়ছে। প্রতি মণ পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ৮৫০০ টাকায়। আবার পেঁয়াজ নিয়ে আসার খরচ আছে। সব মিলিয়ে এই দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সভসভাপতি শারিন মালিক জানান, চুয়াডাঙ্গায় বাইরের দেশের পেঁয়াজ নেই। দেশি পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। দাম বাড়তি থাকলেও অল্প দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হবে।

অন্যদিকে কুড়িগ্রামের রাজারহাটের বাজারে ধান বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা মণ দরে। সেখানে ১ কেজি পেঁয়াজ কিনতে আধামণেরও বেশি ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যে ১ মণ ধান বিক্রির টাকা দিয়েও ১ কেজি পেঁয়াজ মিলবে কিনা এ নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন কৃষকরা।

জানা যায়, বেশ কয়েক দিন ধরে রাজারহাট বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল। সেই পেঁয়াজ ১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আধাঘণ্টার ব্যবধানে ২২০ থেকে ২৪০ টাকা দরে বিক্রি করেন বিক্রেতারা। আর শুক্রবার তা ২৫০ টাকা ছাড়ায়। আকস্মিকভাবে পেঁয়াজের তিনগুণ দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে রাজারহাট ইউএনও মো. যোবায়ের হোসেন বলেন, সারা দেশেই পেঁয়াজ সংকট। কিন্তু কারও বিরুদ্ধে মজুদ করে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Loading...