• আজ ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জীবনযুদ্ধে হার না মানা লিতুন, মুখে ভর করে লিখে দিচ্ছে পরীক্ষা

৫:২৮ অপরাহ্ণ | রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হয়ে আরও দশজনের মতো আত্মনিভর্রশীল হতে চান দুই হাত-পা ছাড়া জন্ম নেয়া লিতুন জিরা। তিনি চান না পরনিভর্রশীল হয়ে সমাজের বোঝা হতে।

তিনি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার শেখ পাড়া খানপুর গ্রামের হাবিুবুর রহমানের মেয়ে। সে এবার উপজেলার খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। দুই হাত-পা না থাকায় মুখের ওপর ভর করে লিখেই পরীক্ষা দিচ্ছে সে।

জানা যায়, ছোট বেলা থেকে লিতুন জিরা মুখ দিয়ে লিখেই মেধার স্বাক্ষর রাখছে। লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহী লিতুন জিরা প্রখর মেধাবী। হুইলচেয়ারেই বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করত। বর্তমানে হুইলচেয়ারটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তা চলাফেরায় কষ্ট হচ্ছে। তার বাবা উপজেলার এআর মহিলা কলেজের প্রভাষক।

তিনি গত ১৭ বছর ধরে ওই কলেজে চাকরি করলেও আজও কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়নি। তার বাবাই সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার ওপর বেতন না হওয়ায় হুইলচেয়ার কেনার জন্য বাবাকে বলতে পারছে না লিতুন জিরা। বছর সাতেক আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুইলচেয়ারটি দেয়া হয়। বর্তমানে তার একটি হুইলচেয়ার খুব দরকার।

লিতুন জিরার বাবা হাবিবুর রহমান ও মা জাহানারা বেগম বলেন, জন্মের পর মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা চিন্তা তাদের মাথায়। কিন্তু এখন মেয়ের মেধা তাদের আশার সঞ্চার করছে। লিতুন জিরা আর ১০ জন শিশুর মতো স্বাভাবিকভাবেই খাওয়া-দাওয়া, গোছল সব কিছুই করতে পারে। মুখ দিয়েই লিখে সে। তার চমৎকার হাতের লেখা যে কারও দৃষ্টি কাঁড়বে।

এ সময় কথা হয় তার সঙ্গে। লিতুনের একটিই ইচ্ছা- পরনির্ভর না হয়ে লেখাপড়া শিখে নিজেই কিছু করতে চাই।

লিতুন জিরার প্রধান শিক্ষক সাজেদা খাতুন বলেন, ২৯ বছর শিক্ষকতা জীবনে লিতুন জিরার মতো মেধাবী শিক্ষার্থীর দেখা পাননি। এক কথায় সে অসম্ভব মেধাবী। শুধু লেখাপড়ায় না, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও অন্যদের থেকে অনেক ভালো। সে মডেল টেস্টেও কেন্দ্রে প্রথম হয়েছে।

Loading...