ভাসমান ট্রেন আবিষ্কার করে বিশ্বকে তাক লাগালেন বাংলাদেশি গবেষক!

১:২৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৯ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক- বাংলাদেশের এক সূর্যসন্তান আলো ছড়াচ্ছেন বিশ্বব্যাপী। বিশ্বের শীর্ষ ৫০ জন গবেষকের মধ্যে তিনি অন্যতম। তিনি ড. আতাউল করিম। অপটিক্যাল সিস্টেম, অপটিক্যাল কম্পিউটিং এবং প্যাটার্ন রিকগনিশনে তার অবদান অন্যতম। যারা অ্যাপ্লায়েড অপটিক্সের ৫০ বছরের ইতিহাসে সর্বাধিক অবদান রেখেছেন তাদের মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি ম্যাগলেভ ট্রেনের প্রযুক্তি নির্মাণ করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। এরইমধ্যে বিভিন্ন দেশে এই ট্রেন বাণিজ্যিকভাবে তৈরির বিষয়টি ভাবা হচ্ছে।

তার গবেষণায় অতীতে ও বর্তমানে অর্থ ব্যয় করছে অপটিক্যাল রিসার্চ অ্যাসোসিয়েটস, মার্কিন সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী, নাসা, ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন, এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট, ন্যাভাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি, রাইট প্যাটারসন ল্যাবরেটরি ইত্যাদি প্রথম সারির সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো।

জানা গেছে, ২০০৪ সালে এ ভাসমান ট্রেনের প্রকল্পটি হাতে নেন ড. আতাউল। দেড় বছরের মাথায় ট্রেনটির প্রোটোটাইপ তৈরি করতে সক্ষম হন তিনি। অথচ সাত বছর চেষ্টা করেও সফলতা পাননি ওল্ড ড্যামিয়ান ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। পরের সময়টায় নামকরা বিজ্ঞানীরা মডেলটি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখেছেন। কিন্তু কোনও খুঁত খুঁজে না পাওয়ায় এটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রেনের প্রচলিত ধারাকে পেছনে ফেলে ড. আতাউল করিম সম্পূর্ণ নতুন এক পদ্ধতিতে এই ট্রেনের নকশা করেছেন। ট্রেনটির গঠনশৈলীও খুবই আকর্ষণীয়। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য, এটি চলার সময় ভূমিই স্পর্শ করবে না। ট্রেনটি চুম্বক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সাবলীলভাবে চলবে। গতিও হবে অনেক বেশি। অনেকটা বুলেট ট্রেনের মত!

জার্মানি, চীন ও জাপানে ১৫০ মাইলের বেশি গতির ট্রেন আবিষ্কৃত হয়েছে। তবে এগুলোর সঙ্গে আতাউল করিমের ভাসমান ট্রেনের পার্থক্য হচ্ছে, ওই ট্রেনে প্রতি মাইল ট্র্যাক বসানোর জন্য গড়ে খরচ পড়ে ১১ কোটি ডলার। আর ড. আতাউলের আবিষ্কৃত এই ট্রেনে খরচ হবে মাত্র এক কোটি ২০ লাখ থেকে ৩০ লাখ ডলার।

জন্ম ও ছাত্রজীবন: ১৯৫৩ সালের ৪ মে সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় জন্ম ড. আতাউল করিমের। বাবা ছিলেন ডাক্তার। ড. করিমের পূর্বপুরুষরা ভারতের আসাম ও মেঘালয় থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে এসেছিলেন। তার মা এদেশে এসেছিলেন বিয়ের পর। ছেলের গৃহশিক্ষক ছিলেন তিনিই। প্রাথমিক ও মৌলিক শিক্ষার জন্য ড. করিম সাতমা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়েন। এক বছর অধ্যয়ন করেন পাথারিয়া ছোটলেখা হাই স্কুলে।

এরপর ভর্তি হন ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে, যা তখন ইস্ট পাকিস্তান ক্যাডেট কলেজ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৬৯ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় আতাউল করিম ৬৪,৪৩২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে চতুর্থ স্থান অধিকার করেন। ১৯৭২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সিলেটের মুরারিচাঁদ কলেজ থেকে অংশ নিয়ে ৩৯,৮৬৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম হন। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগে।

১৯৭৬ সালে বিএসসি (সম্মান) পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চলে যান। ভর্তি হন সেখানকার আলবামা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে ১৯৭৮ সালে পদার্থবিদ্যায় এবং ১৯৭৯ সালে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর লাভ করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮২ সালে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

Loading...