• আজ ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আমার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালালে অনেক এমপি-মন্ত্রীর যাবজ্জীবন হবে: নাজমুল

১:০০ অপরাহ্ণ | বুধবার, নভেম্বর ২০, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ক্যাসিনো, টেন্ডারবাজি, ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে তথ্য সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার চাহিদা মোতাবেক তথ্য সরবরাহ করতে হচ্ছে ব্যাংকগুলোকে। এর আগে চার শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব চাওয়া হয়েছিল।

এদের বেশির ভাগেরই তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। তবে অনেকের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ আসায় বা তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে আরো তথ্যের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এতে নতুন আঙ্গিকে আবারো অনেকের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

নতুন ও পুরাতনসহ আরো ১১৮ ব্যক্তির সম্পদের হিসাব চেয়েছে দুদক। এদের মধ্যে জাতীয় সংসদের হুইপ, সাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্য, ক্ষমতাসীন দল ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, ঠিকাদার, প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার হালদারসহ ও কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী রয়েছে।

দুদকের এই তালিকায় নাম রয়েছে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমেরও। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্য বসবাস করছেন। আর সেখানে বসেই দুদকের এই অভিযান বিষয়ে মতামত জানালেন নাজমুল।

টেন্ডার, চাঁদাবাজি ও তদবিরের মতো কোনো রকম দুর্নীতিতে জড়িত নন দাবি করে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাসীন এমপি-মন্ত্রীদের ওপর আঙুল তুললেন ছাত্রলীগের এই সাবেক শীর্ষ নেতা।

তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালালে অনেক এমপি-মন্ত্রীর যাবজ্জীবন হবে।’ তারা সবাই ধোয়া তুলসিপাতা নয় বলে তীর নিক্ষেপও করলেন। গত ১৮ নভেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এসব মন্তব্য লেখেন সিদ্দিকী নাজমুল আলম।

পাঠকের উদ্দেশে তার সেই ফেসবুক স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো – ‘ছাত্রলীগের দায়িত্ব ছেড়েছি প্রায় চার বছর এতদিন যাবত দেশের বাইরেই থাকি। মাঝখানে ছাত্রলীগের সম্মেলনে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সব মিলিয়ে তিন-চার মাস দেশে ছিলাম। দায়িত্বে থাকার সময় টেন্ডার, চাঁদা ও তদবির কমিটি বানিজ্য কোনটিই করিনি। তারপরেও দুদক অনুসন্ধান চালাচ্ছেন অবৈধ সম্পদের খোঁজে।

কোনো অন্যায় না করে এত বড় কষ্টের দায় কেন নিতে হচ্ছে জানিনা। কষ্ট পাচ্ছি না। নিজের প্রতি ঘেন্না হচ্ছে। এই চার বছরে ধার করেছি প্রায় অনেক টাকা। আমার পাওনাদারও আছেন আমার ফ্রেন্ডলিস্টে। তাদের কাছ থেকে সময় নিয়েছি ফেরত দিব বলে। তারাও ত্যাক্ত বিরক্ত আমার প্রতি।

তবে কি ইসমাঈল চৌধুরী সম্রাটের সঙ্গে আমার রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল এই কারনেই আমার শাস্তি? সম্রাট ভাই আমাকে আদর করতেন, স্নেহ করতেন রাজনীতির মাঠেই তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক হয়েছিল।

সম্রাট ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল এই কারণে দুদক আমার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালালে অনেক এমপি, মন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের তো তাহলে যাবজ্জীবন কারাদন্ড হবে কারন………. #প্রায় সব্বাই দুধে ধোয়া তুলসিপাতা #’

নাজমুল আলমের সেই স্ট্যাটাসের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ওঠে। এ নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

Loading...